নিচের প্রবাহচিত্রটি লক্ষ করো-
জলজ উদ্ভিদের বড়ো বড়ো বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাই হলো অ্যারেনকাইমা।
উদ্ভিদে পরিবহণকারী জটিল টিস্যুই হলো পরিবহণ টিস্যু। এই টিস্যু দুই ধরনের, যথা- জাইলেম ও ফ্লোয়েম। জাইলেমের মাধ্যমে মূল কর্তৃক শোষিত পানি ও খনিজ লবণ পাতা পর্যন্ত পৌছায়। আবার পাতার সৃষ্ট খাদ্যের কিছু অংশ সঞ্চিত থাকে এবং অবশিষ্ট অংশ ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের নানা অংশে প্রেরণ করে। পরিবহণ কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলেই একে পরিবহণ টিস্যু বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'C' হলো ধান যার বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa। এই উদ্ভিদটির নামকরণে ক্যারোলাস লিনিয়াম প্রদত্ত দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করব। নিচে পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো-
১. ধানের নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করবো।
২. এর Oryza অংশটি গণ নাম এবং sativa অংশটি প্রজাতিক নাম।
৩. এটি অনন্য নাম, এ নামে অন্য আর কোনো জীব নেই এবং সার্বজনীন, সকল ভাষায় এটি এভাবে ব্যবহৃত হবে।
৪. এই নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর অর্থাৎ O এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট হরফের এবং দ্বিতীয় অংশের সবগুলোই ছোট হরফের হবে।
৫. মুদ্রণের সময় নামটিকে ইটালিক অক্ষরে লিখতে হয়। যেমন : Oryza sativa
৬. হাতে লেখার সময় এর গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন– Oryzasativa।
৭. প্রথমে যে বিজ্ঞানী এর বিজ্ঞানসম্মত নাম দিয়েছেন তার নাম অনুযায়ীই এটি গৃহীত এবং এই নামের শেষে উক্ত বিজ্ঞানীর নাম সংক্ষেপে সংযোজিত হবে। যেমন– Oryza sativa L. (যেখানে L লিনিয়াসের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ)।
উদ্দীপকের উল্লেখিত 'A' হলো নীলাভ সবুজ শৈবাল (Nostoc) এবং 'B' হলো এককোষী শৈবাল (ডায়াটম)। নীলাভ সবুজ শৈবাল এবং এককোষী শৈবাল উভয়ই শৈবাল হলেও ভিন্ন রাজ্যের অধিকারী। নিচে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো-
নীলাভ সবুজ শৈবাল (Nostoc) এককোষী, ফিলামেন্টাস কলোনিয়াল। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। এদের কোষ বিভাজন দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় ঘটে এবং এরা প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কারণে নীলাভ সবুজ শৈবাল (Nostoc) মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, এককোষী শৈবাল (ডায়াটম) সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। এদের মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন ও কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন সম্পন্ন করে। কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না। এ বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রোটিস্ট। রাজ্যের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কারণে এককোষী শৈবাল প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
উপরের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে. নীলাভ সবুজ শৈবাল (Nostoc) এবং এককোষী শৈবাল (ডায়াটম) একই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।
