সুরভী গ্রামের মেয়ে। সে জীবনে প্রথমবার চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসে বাঘ দেখল। তবে বাঘের খাঁচার সামনে বাঘের সাধারণ নামের পাশে সে আরও একটি বিশেষ নাম দেখতে পেল যা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। সে কিছু দূরে ময়লা আবর্জনার উপর ব্যাঙের ছাতার ন্যায় আরও একটি বিশেষ জীব দেখতে পেল যা সে আগেও তার গ্রামের বাড়িতে দেখেছিল।
গর্ভপত্র হলো ফুলের স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ, যা একটি বা একাধিক ডিম্বাশয়, গর্ভদণ্ড এবং গর্ভমুণ্ড নিয়ে গঠিত।
বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। এর প্রধান কাজ হলো মাতাপিতা থেকে জিন (যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে) সন্তান-সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি ক্রোমোজোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জীবটি হলো বাঘ, যার বৈজ্ঞানিক নাম হলো Panthera tigris। বাঘের এই বৈজ্ঞানিক নামকরণ করতে হবে ICZN কর্তৃক স্বীকৃত দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতিতে। নিচে বাঘ-এর নামকরণ-এর নীতিমালা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. বাঘ-এর নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
২. বৈজ্ঞানিক নামের দুটি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নাম। যেমন: Panthera tigris । এটি বাঘ-এর বৈজ্ঞানিক নাম, এখানে Panthera গণ এবং tigris প্রজাতিক পদ।
৩. বৈজ্ঞানিক নামকে অনন্য হতে হবে। কারণ একই নাম দুই পৃথক জীবের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেই।
৪. বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড়ো অক্ষর হবে, বাকি অক্ষরগুলো ছোটো অক্ষর এবং দ্বিতীয় অংশটির নাম ছোটো অক্ষর দিয়ে লিখতে হবে। যেমন: Panthera tigris .
৫. বৈজ্ঞানিক নাম মুদ্রণের সময় সর্বদা ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে। যেমন- Panthera tigris .
৬. বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন- Panthera tigris .
৭. বৈজ্ঞানিক নামের শেষে নামদানকারীর নাম (সাধারণত সংক্ষিপ্ত) ও প্রকাশকাল লিখতে হয়। যেমন- Panthera tigirs L, 1758 (এখানে L লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ)
৮. যদি কয়েকজন বিজ্ঞানী বাঘকে বিভিন্ন বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ করেন তবে অগ্রাধিকার আইন অনুসারে প্রথম বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।
উদ্দীপকের সুরভী যে জীব দুটি দেখলো সেগুলো হলো যথাক্রমে বাঘ এবং মাশরুম (ব্যাঙের ছাতা)। এদের মধ্যে মাশরুম হলো রাজ্য-৩ ফানজাই এর অন্তর্ভুক্ত এবং বাঘ হলো রাজ্য-৫ অ্যানিমেলিয়ার অন্তর্ভুক্ত। মাশরুম ও বাঘ-এর মধ্যে কোনটি উন্নত নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
রাজ্য ফানজাই এর বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো-
১. এদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।
২. দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
৩. এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
৪. কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
৫. খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।
৬. ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত।
৭. হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
রাজ্য অ্যানিমেলিয়া এর বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো-
১. এরা নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী।
২. এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই।
৩. প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটারোট্রফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে।
৪. দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
৫. এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
৬. পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষ ও স্ত্রী প্রাণীর জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড। গ্যামেট উৎপন্ন হয়।
৭. ভ্রূণের বিকাশকালীন সময়ে ভূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
উপর্যুক্ত দুই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব দুটির বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে বুঝা যায় যে, অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীব বাঘ, ফানজাই রাজ্যের জীব মাশরুম অপেক্ষা অধিক উন্নত।
