নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো-
বংশগতিবিদ্যা হলো ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। উদ্ভিদের পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। রক্তজবা ফুল গাছের পাতায় ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় পাতা সবুজ দেখায়। কিন্তু রক্তজবা ফুল গাছের ফুল লাল হয়। কারণ রক্তজবা ফুলে ক্রোমোপ্লাস্ট নামক প্লাস্টিড থাকে। এটি রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এ ধরনের প্লাস্টিডে ফাইকোএরিথ্রিন নামক রঞ্জক পদার্থ উপস্থিত থাকে, যা ফুলের লাল রঙের জন্য দায়ী। এ কারণে রক্তজবা ফুল গাছের পাতা সবুজ হলেও ফুল লাল হয়।
উদ্দীপকে প্রদত্ত জীবজগতের পাঁচটি রাজ্যকে ক্রমানুসারে সাজালে তা দাঁড়ায়-
পেনিসিলিয়ামের বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার রাজ্যগত অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
পেনিসিলিয়াম প্রধানত মৃতজীবী স্বভাবের। বেশির ভাগ প্রজাতি নানাবিধ পচনশীল শাকসবজি, ফলফলাদি, জ্যাম, জেলি, পনির, ঔষধ, সংরক্ষিত খাদ্য দ্রব্য এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচা ও গলিত দেহের উপর জন্মায়। এর দেহ শাখা-প্রশাখাযুক্ত মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। প্রতিটি কোষে একটি মাত্র নিউক্লিয়াস থাকে। খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলির জন্য রাজ্য-৩: অর্থাৎ ফানজাই রাজ্যের
বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় পেনিসিলিয়ামকে ফানজাই রাজ্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের প্রবাহ চিত্রের ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ রাজ্য যথাক্রমে প্রোটিস্টা, ফানজাই এবং প্লানটি। পাঁচটি রাজ্যকে ক্রমানুসারে সাজালে তা দাঁড়ায় নিম্নরূপ-
১. মনেরা ২. প্রোটিস্টা ৩. ফানজাই ৪. প্লানটি ৫. অ্যানিমেলিয়া।
উক্ত রাজ্যের জীবগুলোর বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, রাজ্য-১ এর জীবগুলো সরল এককোষী, প্রাককেন্দ্রিক এবং আণুবীক্ষণিক। কিন্তু পরবর্তী রাজ্যগুলোতে ক্রমান্বয়ে জীবগুলো জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করেছে। কোষের বৈশিষ্ট্য ও সংখ্যা, দেহের বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাসের প্রকৃতি, চলন ইত্যাদির ভিত্তিতে একটি রাজ্য থেকে তার পরবর্তী রাজ্যে অধিকতর সুগঠিত ও উন্নত জীব রয়েছে। যেমন-রাজ্য-১ এর জীবগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। রাজ্য-১ ও রাজ্য-২ এ এককোষী জীবের অবস্থান হলেও পরবর্তী রাজ্যগুলোতে বহুকোষী জীব রয়েছে। রাজ্য-২ ও রাজ্য-৩ এর জীবগুলোতে সুগঠিত টিস্যুতন্ত্র না থাকলেও রাজ্য-৪ ও রাজ্য-৫ এর জীবগুলোতে সুগঠিত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। রাজ্য-১ থেকে রাজ্য-৪ পর্যন্ত জীবগুলো খাদ্য গলাধঃকরণ করতে না পারলেও রাজ্য-৫ এর জীব তথা প্রাণীগুলো খাদ্য গলাধঃকরণ করতে পারে। এছাড়া রাজ্য-৫ এর অধিকাংশ জীব চলাফেরা করতে পারে কিন্তু এর পূর্বের কোনো রাজ্যের জীব সাধারণত চলাফেরা করতে পারে না।
সুতরাং, এসকল যৌক্তিক কারণেই উক্ত রাজ্যসমূহকে ক্রম উন্নতি অনুসারে সাজানো হয়েছে।
