| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘P পর্বের প্রাণীদের…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৪ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

P পর্বের প্রাণীদের ব্রাশ বর্ডার সম্বলিত একটি নালি থাকে। আর Q পর্বের প্রাণীদের ডায়াফ্রাম আছে ভ্রূণাবস্থায় পৃষ্ঠরেখা বরাবর নিরেট একটি দণ্ডাকার অংশ থাকে পরবর্তীতে তা মেরুদণ্ডে পরিণত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
ঘাসফড়িংয়ের ডানার আবরণই হলো টেগমিনা।
উদ্দীপকের P পর্বের প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। এর ব্রাশ বর্ডার সম্বলিত নালিটি মালপিজিয়ান নালিকা, যার সাথে সংশ্লিষ্ট তন্ত্র হলো ঘাসফড়িংয়ের রেচনতন্ত্র। ঘাসফড়িংয়ের প্রধান রেচন অবস্থা হলো মালপিজিয়ান নালিকা। নিচে এর গঠন ও কাজ চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
সুতার মতো হলুদ রঙের মালপিজিয়ান নালিকাগুলো গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। এরা আকারে ক্ষুদ্র, বেলনাকার, কুণ্ডলীকৃত, মুক্ত ও প্রান্তবদ্ধ। এদের মুক্ত প্রান্তগুলো হিমোসিলের রক্তে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং অন্যপ্রান্ত পাকস্থলি ও অন্ত্রের সংযোগস্থলে সংযুক্ত থাকে। এসব নালিকার প্রাচীর একস্তরী কোষে গঠিত, যার বাইরের দিকে ভিত্তি পর্দা ও ভেতরের দিকে অসংখ্য মাইক্রোভিলাই যুক্ত। এতে হিমোসিল থেকে নাইট্রোজেন ঘটিত রেচন বস্তুসমূহ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে এবং মাইক্রোভিলাইসমূহের আন্দোলনে অন্ত্রের ভিতরে এসে পড়ে। এক্ষেত্রে মাইক্রোভিলাইগুলো সম্মিলিতভাবে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ব্রাশ বর্ডার গঠন করে। নালিকাগুলো নিজে ততটা নড়াচড়া করে না বরং এরা হিমোসিলে হিমোলিম্ফের আন্দোলনে নড়াচড়া করে রেচন সম্পন্ন করে থাকে ।
কাজ: মালপিজিয়ান নালিকা হিমোসিলের হিমোলিম্ফ হতে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করে অন্ত্রে প্রেরণ করে। এরা দেহের অসমোরেগুলেশনে ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত P ও Q প্রাণী দুইটি হলো যথাক্রমে ঘাসফড়িং ও রুইমাছ। এর মধ্যে ঘাসফড়িং ট্রাকিয়ালতন্ত্র এবং রুইমাছ ফুলকার মাধ্যমে শ্বসনিক গ্যাসীয় বিনিময় ঘটায়। রুই মাছের প্রধান শ্বসন অঙ্গ ফুলকা । এদের গলবিলের দুপার্শ্বে অবস্থিত দুটি ফুলকা প্রকোষ্ঠের প্রতিটিতে চারটি করে মোট চার জোড়া ফুলকা বিদ্যমান। প্রতিটি ফুলকা প্রকোষ্ঠ কানকোয়া নামক অস্থিপাত দ্বারা আবৃত থাকে। গলবিলের পার্শ্বপ্রাচীরে পাঁচ জোড়া ফুলকাছিদ্র থাকে। এ ছিদ্রগুলো দিয়ে গলবিল পাশের ফুলকা প্রকোষ্ঠের সাথে যুক্ত থাকে। অপরদিকে ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়াল তন্ত্রে দশ জোড়া ফুলকা ছিদ্র থাকে যা দেহের দুই পাশে উন্মুক্ত হয় এবং কপাটিকা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
রুইমাছের ফুলকা ফিলামেন্টে যে প্লেট থাকে তা এপিথেলিয়ামে আবৃত এবং এর ভেতর রক্তনালিকার কৈশিকজালিকা বিস্তৃত থাকে। অন্যদিকে ট্রাকিয়ালতন্ত্রের ট্রাকিওল নালিসমূহ দেহকোষের সান্নিধ্যে আসে এবং গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে, যেখানে রুইমাছে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে রক্তনালির মাধ্যমে। রুইমাছের বায়ুথলি বা পটকা পৌষ্টিকনালির পৃষ্ঠীয় প্রাচীর থেকে উৎপত্তি লাভ করে এবং পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে বায়ুথলিতে বিদ্যমান গ্যাস শ্বসন কাজে ব্যবহৃত হয়। অপরপক্ষে ঘাসফড়িংয়ের বায়ুথলি ট্রাকিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত যা বাতাস জমা রাখে । এবং শ্বসনের সময় বায়ু প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
কাজেই ঘাসফড়িং ও রুইমাছ দুইটি ভিন্ন ধরনের শ্বসন অঙ্গের মাধ্যমে গ্যাসীয় বিনিময় করে থাকে।