লা-শাতেলিয়ার নীতি হলো- কোনো বিক্রিয়া সাম্যাবস্থায় থাকাকালে যদি ঐ অবস্থার একটি নিয়ামক যেমন- তাপমাত্রা, চাপ বা ঘনমাত্রা পরিবর্তন করা হয়, তবে সাম্যের অবস্থান এমনভাবে বদলাবে যেন নিয়ামক পরিবর্তনের ফলাফল প্রশমিত হয়।
পিঁপড়ায় কামড়ালে ক্ষতস্থান জ্বালা-যন্ত্রণা করে। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমরা ক্ষতস্থানে চুন লাগাই। পোকামাকড়ে অর্থাৎ পিঁপড়ার মুখ বা মৌমাছির হুলে এক ধরনের এসিড থাকে যেটি জ্বালা-যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। ক্ষতস্থানে চুন (ক্ষারক) যোগ করার ফলে এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে সেটি প্রশমিত হয়। ফলে জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই পিঁপড়ার কামড়ে ক্ষতস্থানে চুন ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকের A ও B মৌল দুটি দ্বিতীয় পর্যায়ের গ্রুপ-1 ও গ্রুপ-17 এর মৌল। অর্থাৎ মৌল দুটি হলো Li ও F। Li ধাতু এবং F অধাতু। এদের মধ্যে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়। নিচে এদের বন্ধন গঠন প্রক্রিয়া আলোচনা করা হলো:
বন্ধন গঠনের সময় Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ গঠন করে He এর ইলেকট্রন বিন্যাস এবং F একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে F গঠন করে Ne এর ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে। পরে Li ও F এর মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে LiF যৌগ গঠন করে।
উদ্দীপকের C ও D মৌল দুটি তৃতীয় পর্যায়ের গ্রুপ-15 ও গ্রুপ-17 এর মৌল। সুতরাং মৌল দুটি হলো P ও CI। মৌল দুইটি অধাতু হওয়ায় তাদের মধ্যে সমযোজী বন্ধনের সৃষ্টি হয়। মৌল দুটি দ্বারা ও যৌগ গঠিত হয়। নিম্নে যৌগের পোলার দ্রাবকে অর্থাৎ পানিতে দ্রবণীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো:
P এর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ :
অর্থাৎ ফসফরাসের বহিঃস্থ স্তরে ১টি ইলেকট্রন রয়েছে। অন্যদিকে ক্লোরিন (Cl) পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস হলো নিম্নরূপ:
অর্থাৎ ক্লোরিন পরমাণুর সর্বশেষ স্তরে 7টি ইলেকট্রন রয়েছে। ক্লোরিনের সর্বশেষ স্তরে অষ্টক পূরণের জন্য 1টি ইলেকট্রন প্রয়োজন। অন্যদিকে ফসফরাসের অষ্টক পূরণের জন্য আরো 3টি ইলেকট্রন প্রয়োজন। তাই ফসফরাস 3টি ক্লোরিন পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তার বহিঃস্থ স্তরে অষ্টক পূরণ করে যৌগ গঠন করে।
সমযোগী যৌগ আয়নিক যৌগের মতো ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্ত না থাকায় পানির বিপরীত প্রান্তকে আকর্ষণ করতে পারে না।
ফলে যৌগ পানিতে অদ্রবণীয় থাকে।
অনুরূপভাবে, যৌগও পানিতে অদ্রবণীয় থাকে।
তাই বলা যায়, P ও Cl মৌল দ্বারা গঠিত যৌগ পোলার দ্রাবকে অদ্রবণীয়।
