[এখানে A, X, Y প্রতীকী অর্থে, প্রচলিত কোনো মৌলের প্রতীক নয়।]
কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যে ইলেকট্রন বা ইলেকট্রনসমূহ থাকে তার সংখ্যাকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে।
কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী ও সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলে। CO যৌগে কার্বন (C) এর সক্রিয় যোজনী 2। কিন্তু C এর সর্বোচ্চ যোজনী 4
সুতরাং, CO যৌগে কার্বনের সুপ্ত যোজনী= 4 - 2= 2
উদ্দীপকের ইলেকট্রন বিন্যাস মতে, X ও Y মৌলদ্বয় যথাক্রমে S(16) ও Ca(20)। এদের দ্বারা গঠিত যৌগ Cas। CaS যৌগটি উচ্চ গলনাঙ্ক বিশিষ্ট। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
CaS হলো আয়নিক যৌগ। কেননা CaS যৌগটি ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। আয়নিক যৌগ CaS-এ ধনাত্মক আয়ন এবং ঋণাত্মক আয়ন থাকে। এ আয়নদ্বয় পরস্পরের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে। CaS যৌগ এরূপ অসংখ্য ধনাত্মক, আয়ন ও ঋণাত্মক আয়ন পরস্পরের কাছাকাছি থেকে ত্রিমাত্রিকভাবে সুবিন্যস্ত হয়ে একটি স্ফটিক তৈরি করে। এতে তাদের আন্তঃআণবিক বল অনেক বেশি হয়। ফলে এদেরকে একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে বা গলিয়ে ফেলতে অনেক বেশি তাপশক্তির প্রয়োজন। এজন্য CaS এর গলনাঙ্ক উচ্চ হয়।
উদ্দীপকের তথ্যমতে,
যৌগটি হলো । যৌগের ইলেকট্রন বিন্যাসে দ্বিত ও অষ্টক নিয়ম প্রযোজ্য। নিচে তা বিশ্লেষণ
করা হলো-
অণু গঠনকালে কোনো মৌল ইলেকট্রন গ্রহণ, বর্জন বা ভাগাভাগির মাধ্যমে তার সর্বশেষ শক্তিস্তরে 8টি করে ইলেকট্রন ধারণ করে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন কাঠামো অর্জনের নিয়ম হলো অষ্টক নিয়ম। যৌগে S এর যোজ্যতা স্তরে মোট 8টি ইলেকট্রন আছে (6টি S এর এবং 2টি H এর)। কাজেই অষ্টক নিয়ম মেনে চলে। আবার অণু গঠনে কোনো পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরে এক বা একাধিক জোড়া ইলেকট্রন বিদ্যমান থাকবে। এটি হচ্ছে 'দুই' এর নিয়ম বা 'দ্বিত্ব' নিয়ম।
এক্ষেত্রে যৌগে S এর সর্বশেষ শক্তিস্তরে 4 জোড়া অর্থাৎ 8টি ইলেকট্রন বিদ্যমান এবং প্রত্যেক H এর সর্বশেষ শক্তিস্তরে1 জোড়া অর্থাৎ 2টি করে ইলেকট্রন বিদ্যমান। কাজেই সকল পরমাণু দ্বিত্ব নিয়ম অনুসরণ করেছে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যৌগে ইলেকট্রন বিন্যাসের দ্বিত ও অষ্টক নিয়ম প্রযোজ্য।
