[X, Y, Z, Q কোনো মৌলের প্রতীক নয়। প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত।
যেসব রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যসামগ্রীতে প্রয়োগ করলে খাদ্যসামগ্রীতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, দুর্গন্ধ হয় না, পচন হয় না সেসব রাসায়নিক দ্রব্যকে প্রিজারভেটিভ বলে।
ফ্লোরিনের যোজনী ও যোজ্যতা ইলেকট্রন একই নয়। কারণ আমরা জানি, কোনো অধাতব মৌলের যোজ্যতা স্তরের বিজোড় ইলেকট্রনকে তার যোজনী বলে এবং সর্বশেষ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনকে যোজনী ইলেকট্রন বলে। F এর ইলেকট্রন বিন্যাস-
ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে দেখা যায়, মৌলটির যোজ্যতাস্তরে বিজোড় ইলেকট্রন সংখ্যা 1 হওয়ায় যোজনী 1 এবং যোজ্যতা স্তরে মোট ইলেকট্রন সংখ্যা 7 হওয়ায় যোজনী ইলেকট্রন 7 হয়।
অর্থাৎ, F এর যোজ্যতা ইলেকট্রন ও যোজনী ভিন্ন।
উদ্দীপকের তথ্যমতে, Y ও Z মৌলদ্বয় যথাক্রমে K(19) ও CI(17) এবং এদের দ্বারা গঠিত যৌগ KCI। নিচে KCI যৌগের উচ্চ গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
KCI যৌগে ক্যাটায়ন ) ও অ্যানায়ন এর মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে শক্তিশালী আয়নিক বন্ধন সৃষ্টি হয়। KCI যৌগের স্ফটিক ল্যাটিসে প্রতিটি আয়ন নির্দিষ্ট সংখ্যক বিপরীত চার্জযুক্ত আয়ন দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। বিপরীত চার্জযুক্ত আয়নসমূহ ও পরস্পরের সাথে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যকে যুক্ত থাকায় প্রতিটি আয়ন দৃঢ় সংঘবদ্ধভাবে থাকে। ফলে এদের পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করতে প্রচুর তাপশক্তি প্রয়োজন। তাই KCI যৌগটি উচ্চ গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট হয়।
উদ্দীপকের তথ্যমতে, X – Z যৌগটি LiCI এবং Q – Q অণুটি যেখানে X মৌলটি 1নং গ্রুপের Na এর উপরে এবং Q মৌলটি 17নং গ্রুপের ২য় পর্যায়ে অবস্থিত। LiCl ও F₂ অণুর মধ্যে বন্ধন একই প্রকৃতির হবে না। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
LiCI যৌগের বন্ধন প্রকৃতি: লিথিয়াম (Li) ধাতু এবং ক্লোরিন (CI) অধাতু ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে আয়নিক বন্ধন গঠন করে। Li ও CI পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস-
দেখা যাচ্ছে, Li পরমাণুর যোজ্যতা স্তরে 1 টি মাত্র ইলেকট্রন থাকায় এটি সহজেই 1 টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে আয়নে পরিণত হয়। অপরদিকে CI পরমাণুর যোজ্যতা স্তরে 7টি ইলেকট্রন আছে। নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাস Ar অপেক্ষা 1 টি ইলেকট্রন কম আছে। তাই CI পরমাণু Li পরমাণুর ত্যাগ করা ইলেকট্রন গ্রহণ করে আয়নে পরিণত হয়। পরে ও আয়নদ্বয়ের মধ্যে স্থির বিদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে আয়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয় এবং LiCl আয়নিক যৌগ গঠন করে।
অণুর বন্ধন প্রকৃতি: F পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস:
ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে দেখা যায়, ফ্লোরিনের শেষ কক্ষপথে 7টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। ফলে অষ্টক পূরণের জন্য F এর 1টি ইলেকট্রন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দুটি F পরমাণু পরস্পরের সাথে 1টি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে F₂ অণু গঠন করে নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাস Ne(10) এর ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, LiCl যৌগে আয়নিক বন্ধন ও F₂ অণুতে সমযোজী বন্ধন বিদ্যমান, অর্থাৎ ভিন্ন প্রকৃতির বন্ধন রয়েছে।
