[এখানে, X ও Y প্রকৃত প্রতীক নয়।
যে বিক্রিয়া উভয় দিক থেকে সংঘটিত হয় অর্থাৎ বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদ এবং উৎপাদ থেকে বিক্রিয়কে পরিণত হয় তাকে উভমুখী বিক্রিয়া বলে।
পানির অণুতে অক্সিজেনের অধিক তড়িৎ ঋণাত্মকতার কারণে বন্ধন জোড় ইলেকট্রনটি অক্সিজেনের দিকে সরে আসে। ফলে পানির অণুতে আংশিক ধনাত্মক ( ) ও আংশিক ঋণাত্মক ( ) প্রান্তের সৃষ্টি হয় বলে পানি একটি পোলার যৌগ।
এরূপ আংশিক ধনাত্মক ও আংশিক ঋণাত্মক প্রান্ত সৃষ্টি হওয়ার ঘটনা পোলারিটি নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের X মৌলটি ফসফরাস (P)। ফসফরাসের ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ-
উপরিউক্ত ইলেকট্রন বিন্যাস অনুযায়ী, P এর অযুগ্ম রয়েছে 3 টি। তাই এর যোজনী 3। আবার আরো উত্তেজিত অবস্থায় 5টি অযুগ্ম এর সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ,
উত্তেজিত অবস্থায় 3s থেকে 1টি ইলেকট্রন 3d এ প্রবেশ করে ফলে অযুগ্ম এর সংখ্যা দাঁড়ায় 5টি। তাই এর যোজনী হয় পাঁচ। কারণ কোনো মৌলে যতটি অযুগ্ম থাকে তার যোজনী হয় তত। এভাবে P মৌলটি যোজনী পাঁচ প্রদর্শন করে।
উদ্দীপকের তথ্যমতে, Y মৌলটি ক্যালসিয়াম (Ca)। ক্যালসিয়ামের ক্লোরাইড যৌগটি হলো । যৌগটির পানিতে দ্রবীভূত হওয়ার কৌশল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
যৌগে Ca পরমাণু 2 টি ইলেকট্রন দান করে। অপরদিকে Cl পরমাণু একটিমাত্র ইলেকট্রন গ্রহণে সমর্থ হওয়ায় প্রতিটি Ca পরমাণুর জন্য 2 টি Cl পরমাণুর প্রয়োজন হয়। এরূপে ও Cl আয়ন সৃষ্টি হয়। কে পানিতে দ্রবীভূত করার সময় এর ধনাত্মক মেরু এর ঋণাত্মক আয়নের দিকে এবং এর ঋণাত্মক আয়ন এর ধনাত্মক আয়নের দিকে আবর্তিত হয়। ফলে এর আয়ন ও আয়নসমূহ পানি অণু দ্বারা আকর্ষিত হয় এবং কেলাস ল্যাটিস থেকে ক্রমশ দ্রবণে চলে আসে ।
। ও আয়নসমূহ দ্রবণে পুরোপুরি মুক্ত থাকে না। তারা দ্রাবক পানি অণুর সাথে সংযোজিত থাকে। জলীয় দ্রবণে আয়নিক যৌগের আয়নসমূহের এরূপে পানি অণু সংযোজিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বা হাইড্রেশন বলা হয়। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের সাথে পানি অণুর সংযোগের সময় নির্গত শক্তিকে হাইড্রেশন শক্তি বলে। এ নির্গত তাপশক্তির প্রভাবে এর কেলাস-ল্যাটিস থেকে আয়নপুলো পৃথক হয়ে পানিতে দ্রবীভূত হয় ।
