নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো-
যে পুষ্পমঞ্জরিতে মঞ্জরিদণ্ডের বৃদ্ধি অসীম হয় এবং নিচের দিকে নতুন ফুল উৎপন্ন হতে থাকে, তাকে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে।
সরিষা গাছের পাতা ও ফুলের রঙে ভিন্নতা দেখা যায়, কারণ কোষে উপস্থিত ভিন্ন ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ। নতুন পাতায় ক্লোরোফিল বেশি থাকায় গাঢ় সবুজ এবং পুরানো পাতায় কম থাকায় হালকা সবুজ বা হলদেটে দেখা যায়। ফুলে থাকে জ্যান্থোফিল (হলুদ) ও ক্যারোটিনয়েড (কমলা) নামের রঞ্জক পদার্থ। এসব রঞ্জকের বৈশিষ্ট্য হলো হলুদ বা কমলা রঙ প্রতিফলন করা। ফুলে ক্লোরোফিল কম থাকে বা থাকে না, তাই সবুজ দেখা যায় না। তাই ক্লোরোফিল ও ক্যারোটিনয়েড এই দুই ভিন্ন রঞ্জকের কারণে পাতায় ও ফুলের রঙে ভিন্নতা সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের 'R' অংশটি হলো ভ্রূণথলি। ভূণথলির ভিতরে স্ত্রীগ্যামেটোফাইট বা ডিম্বাণু উৎপত্তি হয়। নিচে স্ত্রীগ্যামেটোফাইটের উৎপত্তি প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো-
ভূণপোষক কলায় ডিম্বকরন্দ্রের কাছাকাছি একটি কোষ আকারে সামান্য বড়ো হয়। এর প্রোটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াসটি তুলনামূলকভাবে বড়। এ কোষটি বিয়োজন বিভাজনের (মিয়োসিস) মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ সৃষ্টি করে। সর্বনিম্ন কোষটি ছাড়া বাকি তিনটি কোষ বিনষ্ট হয়ে যায়। সর্বনিম্ন এই বড়ো কোষটি বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমশ ভূণথলিতে পরিণত হয়। এ কোষটির নিউক্লিয়াস হ্যাপ্লয়েড (n)। এই নিউক্লিয়াসটি বিভক্ত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। এ নিউক্লিয়াস দুটি ভূণথলির দুই মেরুতে অবস্থান নেয়। এবার এ দুটি নিউক্লিয়াসের প্রতিটি পরপর দুবার বিভক্ত হয়ে চারটি করে নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে।
এর পরবর্তী ধাপে দুই মেরু থেকে একটি করে নিউক্লিয়াস ভূণথলির কেন্দ্রস্থলে এসে পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) গৌণ নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। দুই মেরুর নিউক্লিয়াসগুলো সামান্য সাইটোপ্লাজম সহকারে কোষের সৃষ্টি করে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষ তিনটিকে গর্ভর্যন্ত্র বলে। এর মাঝের কোষটি বড়। একে ডিম্বাণু এবং অন্য কোষকে সহকারী কোষ বলা হয়। গর্ভযন্ত্রের বিপরীত দিকের কোষ তিনটিকে প্রতিপাদ কোষ বলে। এভাবেই ভূণথলির গঠনপ্রক্রিয়া শেষ হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'S' হলো সহবাসী উদ্ভিদ (জবা) এবং T হলো ভিন্নবাসী উদ্ভিদ (পেঁপে)। সহবাসী এবং ভিন্নবাসী উদ্ভিদ দুটির মধ্যে সংঘটিত পরাগায়ন দুটি হলো যথাক্রমে স্ব পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন। প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় স্ব-পরাগায়নের চাইতে পর-পরাগায়ন অধিক কার্যকারী। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জবা ও পেঁপে উদ্ভিদে যথাক্রমে স্বপরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন সংঘটিত হয়। প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় স্ব-পরাগায়নের চেয়ে পর-পরাগায়ন অধিক কার্যকরী। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। যেমন- সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি।
স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য কোনো বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে একই প্রজাতির নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন আসে না বলে প্রজাতির গুণাগুণও অক্ষুণ্ণ থাকে। এভাবেই কোনো একটি প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। অপরদিকে, একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরগায়ন হতে দেখা যায়। পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তি সম্পন্ন হয় ও নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছের নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়। উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় স্ব-পরগায়ন অপেক্ষা পর-পরাগায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
