| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘তারুণ্য অপরাজেয়, নির্ভীক।…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৫ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

তারুণ্য অপরাজেয়, নির্ভীক। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপদকে পেরিয়ে যাওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য প্রস্তুত। এদের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহানমন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, আঘাত-সংঘাতের মধ্যে রক্ত-শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। যা আমরা দেখেছি ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে, ৬৯ আর ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে। এ চেতনার প্রতিফলন দেখেছি ২৪শের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে। বাঁক বদলের ইতিহাসে তারুণ্যই অনিবার্য হাতিয়ার।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
"আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ" দ্বারা কবি আঠারো বছর বয়স তথা কৈশোর থেকে যৌবনে পদাপর্ণের কঠিন ও দুঃসহ অবস্থাকে নির্দেশ করেছেন।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। আঠারো বছর বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়। এ বয়সে মানুষ কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। তাকে অন্যদের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হয়। এই সময় থেকে তাকে এক কঠিন ও দুঃসহ অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। তাই কবি আঠারো বছর বয়সকে দুঃসহ বলে উল্লেখ করেছেন।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তরুণদের সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রক্তশপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি এই বয়সের তরুণদের মধ্যকার সকল দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবেলা করার অদম্য প্রাণশক্তির কথা বলেছেন। যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি, নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন এই বয়সকে উজ্জীবিত রাখে। এ বয়সের ধর্ম হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, রক্তশপথ নিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং তা প্রতিকারের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ঝাঁপিয়ে পড়া। উদ্দীপকেও আমরা এমন তারুণ্যশক্তিকে স্তুতিই দেখতে পাই।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে তারুণ্যের অফুরন্ত প্রাণশক্তির কথা। এই বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে যেতে রক্তশপথ নিয়ে এগিয়ে আসে। ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে ২৪-এর জুলাই-আগষ্ট আন্দোলন- সব ক্ষেত্রে তরুণরা সামনে থেকে লড়েছে। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তরুণরাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী। তারা রক্তদানের মন্ত্রে উজ্জীবিত। উদ্দীপকে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার এই সংগ্রামী চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের বক্তব্য ও কবির প্রত্যাশা এক হওয়ায় "এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে"- কবির এই স্বপ্নই যেন রূপায়িত হয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে- মন্তব্যটি আমি স্বীকার করি।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সের বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছেন। কবি প্রার্থনা করেন, এসব বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন তরুণরা যেন জাতীয় জীবনে চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। এ বয়সি তরুণরা সবচেয়ে বেশি দুঃসাহসী হয়। তারা সবচেয়ে বেশি আঘাত সহ্য করতে পারে এবং তা প্রতিহত করতেও জানে।
উদ্দীপকে লেখক তারুণ্যকে অপরাজেয় ও নির্ভীক বলে উল্লেখ করেছেন। তরুণরা অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে রক্তশপথ নিয়ে এগিয়ে যায়। ৫২-র ভাষা আন্দোলন, '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান' থেকে শুরু করে ২৪শের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন- সব ক্ষেত্রে তরুণরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার কবি এমনই তারুণ্যের প্রত্যাশা করেছেন বা স্বপ্ন দেখেছেন।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, এই বয়সের তরুণরা জড় নিশ্চল প্রথাবদ্ধ জীবনকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন, কল্যাণ ও সেবাব্রত, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, চলার দুর্বার গতি ইত্যাদি ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। তাই কবি প্রার্থনা করেন, এসব বৈশিষ্ট্য যেন জাতীয় জীবনে চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের লেখকও বাঁক বদলের ইতিহাসে তারুণ্যকে অনিবার্য হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেননা, তারুণ্যশক্তি বিভিন্ন আন্দোলনে ও গণঅভ্যুত্থানে রক্তশপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাই বলা যায় যে, “এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।"- কবির এই স্বপ্নই যেন রূপায়িত হয়েছে আলোচ্য উদ্দীপকে।