| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘২০০৬ সালের ২৯…’ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ – জীবন ও বৃক্ষ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে পলান সরকারে প্রথম পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি বিনা পয়সায়, পায়ে হেঁটে বই বিলি করতেন মানুষের কাছে। তিনি চেয়েছিলেন সমাজের পুষ্টীকৃত অন্দকার দুকিয়ে যায়। তিনি বিনা পয়সায়। পেজন্য ‘দৈনিক প্রাথম আলো’ পত্রিকা তাঁকে ‘আলোর ফেরিওয়ালা অভিধায় অভিষিক্ত করেছে।
২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তে পলান সরকারের প্রথম পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি বিনা পয়সায় পায়ে হেঁটে মানুষের কাছে বই পৌঁছে দিতেন। তিনি চেয়েছিলেন সমাজের পুঞ্জীভূত অন্ধকার দূর হয়ে যাক। এজন্য ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকা তাঁকে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ অভিধায় অভিষিক্ত করেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৪
➤ নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতার গান গেয়ে শোনায়।
নদীর গতিতে মনুষ্যত্বের দুঃখ-বেদনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীকেই মনুষ্যত্বের প্রতীক করতে চেয়েছেন।
নদীর চলার গতি সহজ নয়। চলার পথে তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফুলের ফোটার সঙ্গে নদীর গতির তুলনা করে নদীর গতির মাঝেই মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য লক্ষ করেছেন। নদীর গতিতে মনুষ্যত্বের দুঃখ যতটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে বৃক্ষের ফুল ফোটানোয় ততটা স্পষ্ট হয় না। তাই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নদীকেই মনুষ্যত্বের প্রতীক করতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত পলান সরকার 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের আত্মত্যাগী ও মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। মানুষ তার মনুষ্যত্বের জন্যই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে বিবেচ্য। পরার্থে জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। বিত্তশালী হলেও অহংকার না করে সবার সঙ্গে এক কাতারে থাকার মনোভাব অর্জনই মানবজীবনের লক্ষ্য।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক অহংকার-হিংসামুক্ত সমাজ কামনা করেছেন। অন্যের পথে অন্তরায় সৃষ্টি না করে তাকে পথ দেখানোই একজন প্রকৃত মানুষের দায়িত্ব। লেখক মানুষকে বৃক্ষের মতো আত্মত্যাগী হতে বলেছেন। বৃক্ষ যেমন ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়েও তা নিজের কাজে ব্যয় করে না, অন্যের জন্যই বৃক্ষের সাধনা—তেমনই মানুষও যেন অন্যের কল্যাণ সাধনায় কাজ করে। উদ্দীপকের পলান সরকারও নিজ কর্মের মাধ্যমে অন্যের কল্যাণ করার জন্য সমাজের পুঞ্জীভূত অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো ছড়াতে চেয়েছেন। এজন্য তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে বই পৌঁছে দিয়েছেন। তাই পলান সরকারকে 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের আত্মত্যাগী ও মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষের প্রতিনিধি বলা যায়।
সারকথা: উদ্দীপকের পলান সরকার মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে গেছেন কোনো বিন্দুমাত্র স্বার্থ ছাড়াই। 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বৃক্ষের আদর্শ রূপটি তুলে ধরেছেন।
"বৃক্ষ যেমন ফুলে-ফলে পরিপূর্ণতা পায়, তেমনই পরার্থে আত্মনিবেদিত মানবজীবনও প্রাপ্তি ও দানে পরিপূর্ণতা পায়"—উদ্দীপক ও 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো মনুষ্যত্ব অর্জন করে পরার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। বৃক্ষ যেমন নিজেকে পরিপুষ্ট করে অন্যের জন্য ফল দান করে, তেমনই মানুষকেও বৃক্ষের জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হয়।
পরার্থে আত্মনিবেদিত, সুকৃতিবান ও বিবেকসম্পন্ন মানবজীবনের মহত্তম প্রত্যাশা থেকেই 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকাঠামোকে বৃক্ষের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, বৃক্ষের বিকাশ, পরিপূর্ণতা ও সার্থকতার পেছনে রয়েছে তার নীরব সাধনা। বৃক্ষ ফুলে-ফলে পরিপূর্ণতা পেয়ে তা অন্যকে দান করে সার্থকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। মানবজীবনের সার্থকতার জন্য মানুষের নিজের সাধনাও তেমনই হওয়া উচিত বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন। উদ্দীপকের পলান সরকারও সমাজের অন্ধকার দূর করার উদ্দেশ্যে বিনা পয়সায় পায়ে হেঁটে মানুষের কাছে বই পৌঁছে দেন। এজন্যই তাঁকে 'আলোর ফেরিওয়ালা' বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের পলান সরকারের চরিত্রে যা প্রতিফলিত হয়েছে, 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধেও একই বিষয় ফুটে উঠেছে। উভয় ক্ষেত্রেই আত্মত্যাগের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভের দিকটি অভিন্ন। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে বৃক্ষের সাধনা ও পরার্থে আত্মনিবেদনের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এই দিকটির সাথে উদ্দীপকের পলান সরকারের মানবহিতকর কর্মকাণ্ডের নিবিড় সাদৃশ্য রয়েছে। এসব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।