দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরশি সাহিত্য পড়তেই বেশি আগ্রহী। মামার সাথে একুশের বইমেলায় গিয়ে সে বাংলা সাহিত্যের বইগুলোই কেনে। তার এই সাহিত্যপ্রীতিকে আরও শানিত করার জন্য তার মামা তাকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারে ভর্তি করে দেন। তিনি সাহিত্য পড়ার ব্যাপারে আরশিকে অনুপ্রাণিত করে বলেন, জ্ঞান-রাজ্যের এক সমৃদ্ধ অঙ্গ হলো সাহিত্য। সাহিত্য ছাড়া কোনো জাতিই বিকশিত হতে পারে না। তবে এর জন্য প্রয়োজন সাহিত্যের বাতিঘর প্রতিষ্ঠা করা।
'কেতাবি' শব্দের অর্থ কেতাব অনুসরণ করে চলে যারা।
লাইব্রেরিতে মানুষ স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায় বলে প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় এবং প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে লাইব্রেরির অবদানের কথা বলেছেন। তিনি লাইব্রেরিকে মনের হাসপাতাল হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ে মনের অসুস্থতা দূর করা যায়। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষ প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে ব্যর্থ হয়। অথচ মানুষ লাইব্রেরিতে গিয়ে খুব সহজেই নিজের পছন্দ অনুসারে বই নির্বাচন করে পড়তে পারে। তাতে তার মনের বিকাশ সাধিত হয়। সেই সঙ্গে আনন্দলাতের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয়। এসব কারণে প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন।
উদ্দীপকের আরশির মামার মধ্যে 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে জাতির সর্ববিধ উন্নতি করার অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে ভিতর থেকে মানুষ করে গড়ে তোলা এবং মনুষ্যত্ব অর্জনে সহায়তা করা। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হলে মানুষকে বই পড়তে হয়, সাহিত্যচর্চা করতে হয়।
উদ্দীপকে জাতির উন্নতির জন্য সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আরশির মামা আরশিকে সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি সাহিত্যকে জ্ঞান-রাজ্যের এক সমৃদ্ধ অঙ্গ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে সাহিত্য ছাড়া কোনো জাতিই বিকশিত হতে পারে না। উদ্দীপকে আরশির মামার এই বক্তব্য 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখকের বক্তব্যের সঙ্গে মিল আছে। লেখকও জাতির উন্নতির জন্য প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে বলেছেন। আর এজন্য তিনি বই পড়া এবং লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। শিক্ষার প্রধান অঙ্গ হলো সাহিত্যচর্চা। সাহিত্যচর্চার জন্য লাইব্রেরির প্রয়োজন হয়। উদ্দীপকে এই লাইব্রেরিকেই আরশির মামা সাহিত্যের বাতিঘর বলে অভিহিত করেছেন।
"উদ্দীপকের মামার অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যটিতে 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বশিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে লাইব্রেরির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। লাইব্রেরি মানুষের মন ও আত্মার জ্ঞানপিপাসা নিবারণ করে। সাহিত্যচর্চার প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে লাইব্রেরি।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি, অসংগতি, অপূর্ণতা, অতীতের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ, বুচিবোধ, সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব, বই পড়ার গুরুত্ব ইত্যাদি দিক তুলে ধরেছেন। লেখকের মতে স্বেচ্ছায় বই পড়ে স্বশিক্ষিত হওয়াই প্রকৃত শিক্ষা। আর তা লাইব্রেরির মাধ্যছে করা সম্ভব। উদ্দীপকের মামার অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যও তাই। মামাও। এখানে সাহিত্যচর্চার জন্য জ্ঞানের বাতিঘর তথা লাইব্রেরির কথ বলেছেন। তিনি আরশিকে জ্ঞান-রাজ্যের সমৃদ্ধ অল্প সাহিতাচা করতে বলেছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধের সারকথা হচ্ছে বই পড়ে এবং সাহিত্যচর্চর মাধ্যমে জীবনকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে তোলা। উদ্দীপকের আরশির মামাও তার বক্তব্যে আরশিকে বই পড়তে এক সাহিত্যচর্চা করতে অনুপ্রাণিত করেছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
