হিমেল ও তুষার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হিমেল মনে করে পাস করার জন্য শুধু পাঠ্যবই ভালো করে পড়লেই যথেষ্ট। কিন্তু তুষার মনে করে ভালো ফলাফল অর্জন করতে হলে পাঠ্য-পুস্তক ছাড়াও অন্যান্য বই পড়া প্রয়োজন। তুষার নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের মধ্যে না থেকে লাইব্রেরিতে গিয়েও বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে।
যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মনের প্রসার দরকার।
আমাদের দেশে স্কুল-কলেজের ভুল শিক্ষাপদ্ধতি কীভাবে ছাত্রদের শিক্ষার ব্যাপারে নিস্পৃহ করে রাখে সেই প্রসঙ্গেই উক্তিটি করা হয়েছে।
দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে মানুষ। মানুষের মৃত্যু হয় একই সঙ্গে দৈহিক ও আত্মিক। দৈহিক মৃত্যুটা সবার দৃষ্টিগোচর হয়। কিন্তু দৈহিকভাবে বেঁচে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তির আত্মিক মৃত্যু ঘটে। এই আত্মিক মৃত্যুর কথা কেউ ভাবেও না, জানেও না। এ দেশে ভুল শিক্ষাপদ্ধতির কারণে কত ছেলের যে শিক্ষা সম্পর্কে ভীতি ও অনীহা সৃষ্টি হয় সেটির হিসাব কেউ রাখে না। ফলে প্রাণস্ফূর্তি নিয়ে বেড়ে ওঠার পরিবর্তে ভীতি ও অপ্রাপ্তির পিছনে ছুটতে ছুটতে তার আত্মার মৃত্যু ঘটে। শিক্ষার্থীর এই আত্মিক মৃত্যুর প্রসঙ্গেই প্রাবন্ধিক বলেছেন, 'দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, আত্মার হয় না।'
উদ্দীপকের হিমেলের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত পাস করা বিদ্যা তথা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ত্রুটিপূর্ণ দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষা মানুষের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। তাই বলে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই চলবে না, হতে হবে সুশিক্ষিত। যার জন্য প্রয়োজন পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে জ্ঞানার্জন করা।
উদ্দীপকের হিমেল মনে করে পাস করার জন্য শুধু পাঠ্যবই ভালো করে পড়লেই যথেষ্ট। হিমেলের এই দৃষ্টিভঙ্গি 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত মানুষের সাধারণ ভাবনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মানুষের সাধারণ বিশ্বাস দেশে যত ছেলে পাস হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে। পাস করা বিদ্যাকে প্রাবন্ধিক শিক্ষা বলতে নারাজ। এ দিক থেকে 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিকের শিক্ষাসংক্রান্ত সমালোচনার সত্যতা উদ্দীপকের হিমেলের মানসিকতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
"উদ্দীপকের তুষারের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্দের লেখকের অভিমত প্রতিফলিত হয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রথাগত পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবন্ধ থাকলে প্রকৃত অর্থে সুশিক্ষিত হওয়া যায় না। সুশিক্ষার জন্য চাই সমন্বিত শিক্ষা।
উদ্দীপকের তুষার দশম শ্রেণির ছাত্র। সে মনে করে ভালো ফল অর্জন করতে হলে পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও অন্যান্য বই পড়া প্রয়োজন। তুষার নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের মধ্যে না থেকে লাইব্রেরিতে গিয়েও বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে। 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিসমূহ তুলে ধরেছেন। লেখকের মতে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। লেখকের মতে পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া এক নয়। লেখকের এ দৃষ্টিভঙ্গি উদ্দীপকের তুষারের মানসিকতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক স্বশিক্ষিত হওয়ার ওপর অধিক জোর দিয়েছেন, যা একমাত্র লাইব্রেরিতে গিয়ে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও পড়াশুনা করতে হবে, সাহিত্যচর্চা করতে হবে। এ অভ্যাসটা উদ্দীপকের তুষারের মাঝে দেখা যায়। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
