রাজন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে।স্কুলে অবসর সময়ে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা না করে সে লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ে। এ নিয়ে রাজনের বন্ধুরা প্রায়ই তাকে বিদ্যার জাহাজ বলে কটাক্ষ করে। তার বন্ধুদের মতে ভালো ফলাফল করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে পাঠ্যবইয়ের কোনো বিকল্প নেই।
সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হলো জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস করা।
আমরা সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত নই বলে আমরা জাত হিসেবে শৌখিন নই।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন- আমরা জাত হিসেবে শৌখিন নই। কারণ আমাদের এই রোগ-শোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে সুন্দরভাবে জীবন ধারণ করা সহজ নয়। জীবনকে সুন্দর করতে আমরা এখনই সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত নই। এ কারণে শিক্ষার ফল লাভ সবাই করতে চায়। এ দিক বিবেচনা করেই লেখক বলেছে আমরা জাত হিসেবে শৌখিন নই।
উদ্দীপকের রাজনের বন্ধুদের মনোভাবে 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রকাশিত আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষাপদ্ধতির দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানের আলোয় মানুষ আলোকিত হয়। শিক্ষা মানুষকে আত্মিক ও মানসিক বিকাশ সাধন করে। কিন্তু যথার্থ শিক্ষা লাভ না করতে পারলে মানুষ সফল হতে পারে না।
উদ্দীপকের রাজনের বন্ধুরা মনে করে পরীক্ষায় ভালো ফল করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে পাঠ্যবইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাদের এই মনোভাব 'বই পড়া' প্রবন্ধে আলোচিত দেশের শিক্ষাপদ্ধতির দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রাবন্ধিক বলেছেন- সেখানে ছেলেদের বিদ্যা গেলানো হয়। তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর নাই পারুক। এর ফলে ছেলেরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণশীর্ণ হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে। উদ্দীপকের রাজনের বন্ধুদের মনোভাবে এ চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের রাজন যেন 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশিত ব্যক্তি- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বশিক্ষিত প্রাণবান মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দেয় না। এতে স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠার শক্তি নষ্ট হয়। এজন্য সত্যিকারের মানুষ হতে হলে সাহিত্যচর্চা করতে হবে।
উদ্দীপকের রাজন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে।স্কুলে অবসর সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা না করে। সে লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ে। 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক এমনই ব্যক্তিকে প্রত্যাশা করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন সাহিত্যচা শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ। সাহিত্যের মাধ্যমে জাতির মনন গঠিত হয়। লেখকের মতে এর দ্বারা জাত উন্নত হয়।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়াকে মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ বলেছেন। আর সাহিত্যচর্চা না করলে শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না। কেননা দর্শন, বিজ্ঞান, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-নিরাশা, সত্য-স্বপ্ন- এসবের মিলনে সৃষ্টি হয় সাহিত্য। উদ্দীপকের রাজন বই পড়তে ভালোবাসে, সাহিত্যচর্চা করতে ভালোবাসে। এ জন্য সে লাইব্রেরিতে যায়। লেখকও লাইব্রেরিকে মনের হাসপাতাল বলেছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
