রাফি দশম শ্রেণির ছাত্র। সে পাঠ্যবই ছাড়া অন্য কোনো বই পড়ে না। সে মনে করে, অন্য বই পড়ে কোনো লাভ নেই। পরীক্ষায় অন্য বই থেকে প্রশ্ন আসে না। আলোর ফেরিওয়ালা শিক্ষক আজিজ সাহেব একদিন তার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তিনি রাফিকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি আর কী ধরনের বই পড়? রাফি বলল, আমি পাঠ্যবইয়ের বাইরে আর কোনো ধরনের বই পড়ি না, স্যার। তখন আজিজ সাহেব তাকে বোঝান, প্রকৃত শিক্ষিত হতে হলে জ্ঞানের দরকার। আর জ্ঞান শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। তোমাকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি আরও অনেক ধরনের বই পড়তে হবে।
'কারদানি' শব্দের অর্থ বাহাদুরি।
"ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।"- কথাটির মাধ্যমে প্রাবন্ধিক স্বাস্থ্য এবং ব্যাধির বৈশিষ্ট্যসমূহ সামনে রেখে মানুষের ভালো ও মন্দ বৈশিষ্ট্য অর্জনের বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন- ব্যাধিই সংক্রামক তথা রোগ- ব্যাধি সংক্রমিত হওয়ার বা ছড়িয়ে যাওয়ার বিষয়। আর স্বাস্থ্য ছড়িয়ে যায় না, তা ছড়ানোর বিষয় নয়। মানুষকে তা অনেক যত্নে অর্জন করতে হয়। ইংরেজ সভ্যতার পাশাপাশি থেকে আমরা সেই সভ্যতার ভালো বৈশিষ্ট্যগুলো আয়ত্ত না করে খারাপ বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করেছি। ডেমোক্রেসির গুরুরা চেয়েছিলেন সবাইকে সমান করতে। অথচ ডেমোক্রেসির দোষগুলো আমরা আত্মসাৎ করেছি অবলীলায়, যা আমাদের মধ্যে রোগের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আমাদের মানসিকতার উৎকর্ষ সাধিত হয়নি। এ দিকটি বোঝাতেই প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকের রাফির মনোভাবে 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ফল লাভের দিক তথা নগদ বাজার দরের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনুষ্যত্ববোধ জাগিয়ে তোলা। সেই জাগরণ ঘটাতে না পারলে সেটাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা যায় না। প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের জন্য তাই জ্ঞান অর্জন করতে হয়। বই পড়ার মাধ্যমে সেই জ্ঞান অর্জন করা যায়।
উদ্দীপকে একজন ছাত্রের মানসিকতা এবং একজন শিক্ষকের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পরামর্শের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে দশম শ্রেণির ছাত্র রাফির পাঠ্যবই ছাড়া অন্য কোনো বই না পড়ার মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। সে বিশ্বাস করে অন্য বই পড়ে কোনো লাভ নেই। তার এই মানসিকতা 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ফল লাভের নগদ বাজারদরের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। লেখক এ প্রবন্ধে এমনই এক শ্রেণির মানুষের মানসিকতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মানুষই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবণ করতে পারে না। তাই অর্থকরী নয় এমন সবকিছুই এদেশে অনর্থক বলে বিবেচনা করা হয়। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সার্বিক উন্নতি ও আত্মিক মুক্তি তাদের কাম্য নয়। এদিক থেকে উদ্দীপকের রাফির মনোভাবে 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ফল লাভের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের আজিজ সাহেব যেন প্রমথ চৌধুরীর সার্থক প্রতিনিধি- মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষা হচ্ছে জীবন ও জগতের কল্যাণ সাধনে আনন্দের মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত ব্যবহারযোগ্য জ্ঞান। শিক্ষা অর্জনের জন্য মানুষকে বই পড়তে হয়। বই পড়ার মাধ্যমেই মানুষ জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করতে পারে। কারণ প্রকৃত শিক্ষা স্বশিক্ষার মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলোচনা করেছেন। তিনি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে আমাদের হৃদয়বৃত্তিকে নষ্ট করে দেয় সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই মুখস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে সৃষ্টিশীলতাকে নষ্ট করার কথা বলেছেন। এসব হীন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং বই পড়ার প্রতি তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। লেখকের এ দিকটি উদ্দীপকের আজিজ সাহেবের চিন্তাধারায় প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি প্রকৃত শিক্ষিত হওয়ার জন্য দশম শ্রেণির ছাত্র রাফিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে আরও বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক যথার্থ শিক্ষিত হয়ে মনের প্রসার ঘটানোর জন্য বই পড়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তিনি লাইব্রেরিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ মানুষ সেখানে পছন্দমতো বই পাঠ করে জ্ঞান অর্জন করে। লেখকের সঙ্গে উদ্দীপকের আজিজ সাহেবের পরামর্শ একসূত্রে গাঁথা। তিনি দশম শ্রেণির ছাত্র রাফিকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি আরও অনেক ধরনের বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাতে সে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠবে। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
