A. Nayan
A. Nayan
28 May 2026 (4 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘আরশি সাহিত্য আড্ডায়…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📖 ৫ম অধ্যায় : বই পড়া - প্রমথ চৌধুরী🔢 সৃজনশীল নং:🏫 বোর্ড: বরিশাল বোর্ড📅 সাল: ২০২৩⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

আরশি সাহিত্য আড্ডায় প্রতিদিন নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রকিব স্যার আড্ডায় বলেন কেবল শিশুদের পড়তে শেখানোই যথেষ্ট নয়। তাদের পড়ার উপযুক্ত কিছু দিতে হবে। এমন কিছু যা তাদের ধারণাগুলোকে প্রসারিত করবে, এমন একটি জিনিস যা তাদের জীবনে অনুভূতি তৈরি করতে এবং তাদের জীবন থেকে পৃথক হওয়া মানুষকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। ফারুক স্যার বলেন, শুধু তাই নয়, নিজের অন্তর আত্মাকে বিকশিত করার জন্য নিজ আগ্রহে শিক্ষা লাভ না করলে কেউ খুব ভালোভাবে শিক্ষিত হতে পারবে না।

উত্তর:

যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মনের প্রসারতা দরকার।

উত্তর:

প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য লেখক কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতে চান না।

শখ করে বই পড়ার পরামর্শ না দেওয়ার প্রথম কারণ, লেখকের সেই পরামর্শ কেউ গ্রাহ্য করবে না এজন্য যে আমরা জাতি হিসেবে শৌখিন নই। আর দ্বিতীয় কারণ হলো- রোগশোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে যেখানে স্বাভাবিকভাবে জীবনধারণই প্রধান সমস্যা সেখানে শখ করে বই পড়ার প্রস্তাব পাঠকের কাছে খুব নির্মম ঠেকবে।

উত্তর:

উদ্দীপকের ফারুক স্যারের মন্তব্যের সঙ্গে ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের নিজ উদ্যোগে স্বশিক্ষিত হওয়ার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘বই পড়া’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী বই পড়ার মাধ্যমে স্বশিক্ষিত হওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। নিজের প্রচেষ্টাতে শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। কারণ সুশিক্ষিত লোকমাত্রই স্বশিক্ষিত। যিনি সুশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনিই সুশিক্ষিত। আর নিজ প্রচেষ্টাতে শিক্ষিত হওয়ার জন্যই তিনি স্বশিক্ষিত। শুধু স্কুল-কলেজের পাঠ্যবই পড়েই শিক্ষিত হওয়া যায় না। এজন্য পাঠ্যবহির্ভূত অন্যান্য বই পড়তে হয়। তাই নিজ উদ্যোগে অন্যান্য বই পড়েই স্বশিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক। কেননা স্বশিক্ষিত হওয়ার জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

উদ্দীপকে আরশি সাহিত্য আড্ডায় প্রতিদিন নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে শিশুদের পাঠ উপযোগী বই পড়ার কথা বলা হয়। উক্ত আলোচনায় ফারুক স্যার নিজের অন্তরাত্মাকে বিকশিত করার জন্য নিজ আগ্রহে শিক্ষা লাভ করার কথা বলেছেন। কারণ নিজ আগ্রহে শিক্ষা লাভ না করলে কেউ ভালোভাবে শিক্ষিত হতে পারবে না। অর্থাৎ নিজের প্রচেষ্টাতে শিক্ষা লাভ করতে পারলেই স্বশিক্ষিত হওয়া সম্ভব। ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও একই কথা বলেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ফারুক স্যারের মন্তব্যের সঙ্গে ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের স্বশিক্ষিত হওয়ার দিকটির সাদশ্য রয়েছে।

উত্তর:

"উদ্দীপকের রকিব স্যারের মন্তব্যের ভাবার্থ যেন 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মানসচেতনার প্রতিফলন।"- উক্তিটি যথার্থ।

'বই পড়া' প্রবন্ধে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। মেধা ও মননশীলতার বিকাশ সাধনের জন্য বই পড়তে হবে। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের সৃজনশীল চিন্তা-চেতনার জগৎ প্রশস্থ হয়। আত্মিক উন্নয়নের জন্য বই পড়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী শুধু পাঠ্যবই নয় বরং জীবনমুখী যেকোনো বই অধ্যয়নের পরামর্শ দিয়েছেন। স্কুল-কলেজের পাঠ্যবই একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু অন্যান্য বইয়ের মধ্যে অসীম জ্ঞানের সাগর লুকিয়ে আছে। জ্ঞান সাগরে সাতার দেওয়ার মাধ্যমেই মনুষ্যত্বের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটাতে হবে।

উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, আরশি সাহিত্য আড্ডায় প্রতিদিন আড্ডা জমে। সেখানে বই পড়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। রকিব স্যার আড্ডায় বলেন, কেবল শিশুদের পড়তে শেখানোই যথেষ্ট নয়। তাদের পড়ার উপযুক্ত কিছু দিতে হবে। এমন কিছু যা তাদের ধারণাগুলোকে প্রসারিত করবে। এমনকি তাদের জীবনে সেগুলো অনুভূতি তৈরি করতে সক্ষম হবে। অর্থাৎ মেধা বিকাশের জন্য রকিব স্যার উপযুক্ত বই পড়ার মতামত দিয়েছেন। বই পড়া ব্যতীত শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু বিকাশ সাধন সম্ভব নয়। সৃষ্টিশীল চিন্তাধারা মনের মধ্যে গড়ে তোলার জন্যই বই পড়া আবশ্যক।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের রকিব স্যারের মন্তব্যের ভাবার্থ যেন 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মানসচেতনারই প্রতিফলন মাত্র। কারণ উদ্দীপকের রকিব স্যার বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। এজন্য তিনি বই পড়ার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। উদ্দীপকের রকিব স্যারের ন্যায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও বই পড়ার তাৎপর্য বর্ণনা করেছেন। উভয় স্থানেই একই সুরের ধ্বনি বেজে উঠেছে। দুজনের চিন্তা-চেতনা এক ও অভিন্ন হিসেবেই প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের রকিব স্যারের কর্মকান্ডে যেন আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মানসচেতনারই প্রতিফলন ঘটেছে। সুতরাং উক্তিটি যথার্থ বলেই প্রতীয়মান হয়।

7 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘আরশি সাহিত্য আড্ডায়…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”