(i) প্রচলিত শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়া গুগলকর্মীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গুগলের কিছু কিছু টিমে ১৪ শতাংশ কর্মীর প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ডিগ্রি নেই। যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেয়েও নিজের প্রতিভা এবং মজ্জাগত মেধার সফল প্রয়োগ করে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছে, পশ্চিমা বিশ্বে এরা ‘সাউথ পোলার’ হিসেবে পরিচিত।
(ii) বই পড়া সম্পর্কে বিল গেটস বলেছেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। আর এই স্বপ্ন পেয়েছিলাম বই থেকে। আমার ঘরে, অফিসে, গাড়িতে সর্বত্রই আমার সঙ্গে থাকে বই।”
প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল'।
“ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়”- কথাটির মাধ্যমে প্রাবন্ধিক স্বাস্থ্য এবং ব্যাধির বৈশিষ্ট্যসমূহ সামনে রেখে মানুষের ভালো ও মন্দ বৈশিষ্ট্য অর্জনের বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন- ব্যাধিই সংক্রামক তথা রোগ-ব্যাধি সংক্রমিত হওয়ার বা ছড়িয়ে যাওয়ার বিষয়। আর স্বাস্থ্য ছড়িয়ে যায় না, তা ছড়ানোর বিষয় নয়। মানুষকে তা অনেক যত্নে অর্জন করতে হয়। ইংরেজ সভ্যতার পাশাপাশি থেকে আমরা সেই সভ্যতার ভালো বৈশিষ্ট্যগুলো আয়ত্ত না করে খারাপ বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ - করেছি। ডেমোক্রেসিকে আয়ত্ত করেছি তার দোষগুলোকে আত্মসাৎ করে, যা আমাদের মধ্যে রোগের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আমাদের মানসিকতার উৎকর্ষ সাধিত হয়নি। এ দিকটি বোঝাতেই প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপক (i)-এর 'সাউথ পোলার' ব্যক্তিরা 'বই পড়া' প্রবন্ধ অনুসারে প্রকৃত শিক্ষিত তথা স্বশিক্ষিতদের প্রতিনিধিত্ব করে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখকের মতে সুশিক্ষিত লোকমাত্রই স্বশিক্ষিত। আমাদের স্কুল-কলেজে যে শিক্ষা প্রচলিত তাতে সুশিক্ষা লাভ করা সম্ভব নয়। কারণ এখানে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারা পরীক্ষা পাশের জন্য নোট মুখস্থ করে। আর পাশের পর অর্থ উপার্জনকেই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ভাবে। এ শিক্ষা তাদের মনে আনন্দ দিতে পারে না। ফলে তাদের প্রকৃত শিক্ষা লাভ হয় না। 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মতে বই পড়ে ও সাহিত্যচর্চা করে আনন্দচিত্তে মানুষ যদি শিক্ষা অর্জন করে তাহলে তার শিক্ষা পরিপূর্ণ হয়।
উদ্দীপক (i)-এর 'সাউথ পোলার' ব্যক্তিরা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞান অর্জন করেনি। তারা নিজেদের প্রতিভা ও মজ্জাগত মেধার সফল প্রয়োগের মাধ্যমে তা অর্জন করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তারা শিক্ষিত না হয়েও কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। এ দিকটি 'বই পড়া' প্রবন্ধে আলোচিত প্রকৃত শিক্ষিত তথা স্বশিক্ষিতদের কর্মকাণ্ডের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। লেখক এ প্রবন্ধে 'বই পড়ার' মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে প্রকৃত শিক্ষিত হওয়ার কথা বলেছেন। লাইব্রেরিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের যে সুযোগ রয়েছে তা স্কুল-কলেজের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যক্রমে নেই। কারণ সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিযুক্ত। পাঠ্যপুস্তকে আবদ্ধ হয়ে পড়ে একজন শিক্ষার্থী যেভাবে শিক্ষা লাভ করে তাতে সার্টিফিকেট পাওয়া গেলেও প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় না। কারণ তাতে মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে না এবং প্রকৃত শিক্ষা লাভহয় না। আর বই পড়ে স্বশিক্ষিত লোকই সুশিক্ষিত। এভাবে উদ্দীপক (i)-এর 'সাউথ পোলার' ব্যক্তিরা 'বই পড়া' প্রবন্ধের স্বশিক্ষিত লোকদের প্রতিনিধিত্ব করে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়া, সাহিত্যচর্চা, লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা ও স্কুল-কলেজের প্রচলিত শিক্ষার ত্রুটি সম্পর্কে যে আলোচনা করেছেন সেই দিক বিবেচনায় “উদ্দীপক (ii)-এর বক্তব্য 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের ভাবনার খণ্ডিত প্রতিফলন মাত্র” মন্তব্যটি যথার্থ।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি, অসংগতি, অপূর্ণতা, অতীতের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ, রুচিবোধ, সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব, বই পড়ার জন্য লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার গুরুত্ব ইত্যাদি দিক তুলে ধরেছেন। লেখকের মতে স্বেচ্ছায় বই পড়ে স্বশিক্ষিত হওয়াই প্রকৃত শিক্ষা। আর তা লাইব্রেরির মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখকের সব বিষয় উদ্দীপক (ii)-এর বক্তব্যে। প্রকাশ পায়নি। সেখানে কেবল বই পড়ার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। ছোটোবেলা থেকেই বিল গেটস বই পড়ে কীভাবে স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়েছেন তা বলা হয়েছে। বইয়ের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কথা ব্যক্ত হয়েছে। তিনি তার অফিসে, গাড়িতে, ঘরে সর্বত্র বই সঙ্গে রাখার কথা বলেছেন। এতে বই পড়ার প্রতি বিশেষ ঝোঁক এবং তা থেকে অর্জিত জ্ঞান স্বপ্নপূরণে কাজে লাগানোর দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে। 'বই পড়া' প্রবন্ধের অন্য কোনো দিক প্রকাশ পায়নি।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত শিক্ষিত হওয়ার জন্য বই পড়া এবং বই পড়ার জন্য লাইব্রেরির যে গুরুত্ব নির্দেশ করেছেন তা উদ্দীপকে নেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার ত্রুটি নির্দেশ করে লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন এবং লাইব্রেরিকে যে মনের হাসপাতাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন তা উদ্দীপক (ii)-এর বক্তব্যে প্রকাশ পায়নি। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
