কালাম পাঠ্যবইয়ের পাশাপশি বিভিন্ন বই পড়তে ভালোবাসে। অবসর’ সময়ে সে নানা রকম বই পড়ে। সে মনে করে অন্যান্য বই পড়লে তার জ্ঞানের রাজ্য অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে। সে বই পড়ার আগ্রহ থেকে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সদস্য হয়। তার মা কখনো তাকে বাধা না দিলেও বাবাসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন বিষয়টি ভালো চোখে দেখে না। তাঁরা মনে করে ভালো ফলাফল করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুধু পাঠ্যবই পড়াই বাঞ্ছনীয়।
প্রথম চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল'।
স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য তথা সাহিত্যচর্চার জন্য লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা অনেক।
সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চাপে পড়ে ব্যক্তি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। তখন তারা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারে না। শিক্ষার আসল মাহাত্ম্য তখনই উপলব্ধ হয় যখন ব্যক্তি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়। আর এজন্য আমাদের বই পড়তে হবে এবং সাহিত্যচর্চা করতে হবে। আর সাহিত্যচর্চার জন্য লাইব্রেরিই একমাত্র জায়গা যেখানে ব্যক্তি তার পছন্দমতো বই পড়ে নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। তাই স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া তথা সাহিত্যচর্চার জন্য লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
উদ্দীপকে কালামের বাবা ও অন্য আত্মীয়দের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের যে ভাব ফুটে উঠেছে সেটি হলো লেখাপড়া করা হয় শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক স্কুল-কলেজের প্রচলিত শিক্ষাকে ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ স্কুল-কলেজের এ শিক্ষা ছেলেদের স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দেয় না। শুধু তাই নয়, স্বশিক্ষিত হওয়ার শক্তিও নষ্ট করে দেয়। মানুষ যখন অর্থ উপার্জনের জন্যেই পড়াশোন! করে তখন তার মধ্যে কোনো প্রাণশক্তি থাকে না, একেবারে শূন্য হয়ে যায়। এর কারণ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের যে শিক্ষা দেওয়া হয় তা তাদের জোর করে গেলানো হয়। এতে তারা অর্থ উপার্জনের যন্ত্রে পরিণত হয়, মনের স্ফূর্তি তাতে থাকে না। ফলে তারা সুশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ থেকে দূরে সরে গিয়ে প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কালাম পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বই পড়তে ভালোবাসে। অবসর সময়ে সে নানা রকম বই পড়ে। তার মা তাকে কখনো বাধা দেয় না, অথচ বাবাসহ অন্য আত্মীয়স্বজন বিষয়টি ভালোভাবে দেখেন না। তারা মনে করেন ভালো ফলাফল করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুধু পাঠ্যবই পড়াই বাঞ্ছনীয়। 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক এ ধরনের চিন্তার সমালোচনা করেছেন। শিক্ষাকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম মনে করলে কেউ সুশিক্ষিত হতে পারে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে কালামের বাবা ও অন্য আত্মীয়দের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত শিক্ষাকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ভাবার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বইপড়ার গুরুত্ব নির্দেশ করে যে কথা বলেছেন সেই দিক বিবেচনায় "উদ্দীপকের কালাম যেন 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মানসপুত্র" মন্তব্যটি যথার্থ।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস করা। আমাদের বই পড়তে হবে, কেননা বই পড়া ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই। এ কারণে তিনি বলেছেন- এদেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় বরং স্কুল-কলেজের চাইতে একটু বেশি। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য বই পড়া প্রয়োজন। যথার্থ শিক্ষা অর্জন করতে চাইলে শিক্ষার্থীকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়তে হয়। নিজেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে চাইলে সব ধরনের বই পড়তে হয়। স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাইলেও বই পড়ার বিকল্প নেই।
উদ্দীপকের কালাম পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বই পড়তে ভালোবাসে। অবসর সময়ে সে নানা রকম বই পড়ে। সে মনে করে অন্যান্য বই পড়লে তার জ্ঞানের ভান্ডার অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে। বই পড়ার এই আগ্রহ থেকে সে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সদস্য হয়। কালামের এই চিন্তা-ভাবনাই 'বই পড়া' প্রবন্ধের মূল সুর।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের দিক তুলে ধরেছেন। লেখক শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ব্যক্তিকে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন। কেননা লাইব্রেরিতে মানুষ নিজের ইচ্ছামতো শিক্ষা লাভ করে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। প্রগতিশীল জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাইলে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া আবশ্যক বলে লেখক মনে করেন। লেখকের বর্ণিত বই পড়ার গুরুত্বের উপলব্ধি উদ্দীপকের কালামের মধ্যেও পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কালাম যেন 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মানসপুত্র।
