শিহাবের প্রধান শখ বই পড়া। সে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে। তাই সে নিয়মিত লাইব্রেরিতে তার পছন্দমতো বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে। কিন্তু তার মা তাকে শুধু পরীক্ষা পাশের জন্য পাঠ্যবই পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন। তার মায়ের ধারণা, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে পাঠ্যবইয়ের কোনো বিকল্প নেই।
যথার্থ গুরুর কাজ শিষ্যের আত্মাকে উদ্দ্বোধিত করা এবং তার অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে মুক্ত এবং ব্যক্ত করে তোলা।
"মনের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের আত্মা বাঁচে না” বলতে লেখক সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলে জীবনশক্তি হারানোর আশঙ্কা করেছেন।
দেহ ও আত্মার সমন্বয়েই মানুষ। মনুষ্যত্বসম্পন্ন আনন্দপূর্ণ মানুষ গঠনে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। দেহের বেঁচে থাকার জন্য যেমন উদরপূর্তি দরকার, তেমনই আত্মার বেঁচে থাকার জন্য দরকার সাহিত্যচর্চা। এভাবে মন ও প্রাণের চাহিদা মোতাবেক উভয়ের দাবি পূরণ করলেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ সম্ভব। শুধু প্রাণের দাবি রক্ষা করে মনের দাবিকে রক্ষা না করলে মানুষের আত্মা মরে যায়। মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে। আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা লেখক মনের দাবি মেনে অর্থাৎ সাহিত্যচর্চা করে জাতির বিকাশকে ত্বরান্বিত করার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
উদ্দীপকের শিহাবের মায়ের ধারণা 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ফল লাভের দিক তথা নগদ বাজারদরের দিককে ইঙ্গিত করে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক আমাদের স্কুল-কলেজের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে এ ধরনের শিক্ষা ছেলেদের স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দেয় না। অন্যদিকে লাইব্রেরিতে গিয়ে লোকে স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়। এ কারণে তিনি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন। নোট মুখস্থ করে পাশ করে চাকরির জন্য সবাই শিক্ষার বস্তুগত চাহিদা পূরণের প্রতি লালায়িত। শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের কথা ব্যতিরেকে মানুষ অর্থ উপার্জনে বেশি আগ্রহী। তারা ভাবে যে শিক্ষা তাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে। কারণ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা তাদের জ্ঞান উপার্জন অপেক্ষা অর্থ উপার্জন করতে শেখায়।
উদ্দীপকের তিতলী পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্য বই পাঠ করায় তার মা ভয় পান। তিনি মনে করেন তিতলী পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়লেই ভালো ফল লাভ করবে এবং ভালো চাকরি পাবে। মায়ের এ ধারণা 'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রতিফলিত শিক্ষার ফল লাভ বা নগদ বাজারদরের বিষয়টিকে নির্দেশ করে। এর কারণ বেশিরভাগ মানুষই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে পারে না। উদ্দীপকের মায়ের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। তিনি স্বচ্ছন্দচিত্তে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করার বিষয়টি বুঝতে পারেননি তাই স্কুলের সিলেবাসভুক্ত বই পড়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, যা মানুষের প্রকৃত শিক্ষা ও মনুষ্যত্বের জাগরণের অন্তরায়। এভাবে তিতলীর মায়ের ধারণা আলোচ্য প্রবন্ধের শিক্ষার ফল লাভের দিক তথা নগদ বাজারদরের দিককে ইঙ্গিত করে।
'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক বই পড়ার গুরুত্ব নির্দেশ করে বেশি বেশি বই পড়তে বলেছেন যা উদ্দীপকের শিহাবের মানসিকতায়
প্রতীয়মান হয়েছে। তাই "উদ্দীপকের শিহাবের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের অভিমত ব্যক্ত হয়েছে" মন্তব্যটি যথার্থ।'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক স্বেচ্ছায় বই পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। এজন্য তিনি শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে, পাড়ায়-মহল্লায় লাইব্রেরি গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। বই পড়ার মাধ্যমে মনের প্রসার ঘটিয়ে জাত মানুষ হওয়া যায়।
উদ্দীপকের শিহাবের প্রধান শখ বই পড়া। সে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে লাইব্রেরিতে যায়। 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকও লাইব্রেরিকে মনের হাতপাতাল বলেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের পছন্দ ও অভিরুচি অনুযায়ী বই পড়তে উৎসাহিত করেছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক বলেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লব্ধ জ্ঞান পূর্ণাঙ্গ নয় বলেই ব্যাপকভাবে বই পড়া দরকার। কারণ যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মনের প্রসার দরকার। সেজন্য বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে। এর জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। জাতির মানসিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকের শিহাবও শখ হিসেবে বই পড়ে। নিয়মিত লাইব্রেরিতে গিয়ে সে নিজের মনের প্রসার ঘটায় এবং প্রগতিশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতা অর্জন করে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের শিহাবের মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের অভিমতই প্রতিফলিত হয়েছে" উক্তিটি যথার্থ।
