রাহেলা একজন সচেতন মা। তার একমাত্র মেয়ে রেণুকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্য বই পড়তে বলেন। বিভিন্ন উপলক্ষ্যে মেয়েকে বই উপহার দেন। নিজের বাসায় গড়ে তুলেছেন পারিবারিক লাইব্রেরি। অন্যদিকে তার বান্ধবী রেহানা মনে করে, লাইব্রেরিতে বিভিন্ন বই পড়লে সময় নষ্ট হবে, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা যাবে না। তাই তার মেয়ে রিয়াকে স্কুলের নির্ধারিত বইগুলোই পড়ান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে লব্ধ শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে ব্যাপকভাবে বই পড়া দরকার।
আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে জ্ঞান বা শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি গ্রহণকারীর ওপর নির্ভরশীল হলেও আমরা দাতার যোগ্যতা দেখেই সন্তুষ্ট হই, গ্রহণকারীর কথা ভাবি না।
শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। শিক্ষা লাভের বিষয়টি একজন শিক্ষার্থীকে অর্জন করতে হয়। শিক্ষক এক্ষেত্রে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষার্থী যদি কোনো কারণে অমনোযোগী থাকে, তবে শিক্ষকের পাঠদান ব্যর্থ হতে বাধ্য। শিক্ষক শুধু পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, মনোরাজ্যের ঐশ্বর্যের সন্ধান দিতে পারেন। সেই পথে হেঁটে বিদ্যা অর্জন করতে হয় শিক্ষার্থীর নিজেকে।
উদ্দীপকের রেহানার কাজে 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ফল লাভের প্রতি উদ্বাহু থাকার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বলেন, বই পড়া মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও শখ হিসেবে তিনি কাউকে বই পড়ার উপদেশ দিতে রাজি নন। আমাদের মতো এমন রোগ-শোক-দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে মানুষ শিক্ষার নগদ ফল লাভের জন্য উদ্বাহু, তাই তাঁর এমন পরামর্শকে মানুষ কুপরামর্শ ভাবে।
উদ্দীপকের রেহানা বেগম লাইব্রেরিতে বই পড়াকে সময় নষ্ট মনে করেন। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য তিনি তার মেয়ে রিয়াকে স্কুলের নির্ধারিত বই পড়ার পরামর্শ দেন। তাই রেহানা 'বই পড়া' প্রবন্ধে বর্ণিত, শিক্ষার নগদ বাজারদরের গুরুত্বের দিকটি নির্দেশ করেছেন। লেখক এ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক নয়। কিন্তু এ দেশের পেশাদাররা পাশ করাকেই শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ দিক মনে করে। ফলে উদ্দীপকের রেহানার কাজে শিক্ষার নগদ বাজারদরের দিকটিই প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রাহেলার আচরণে জাতির মানসিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে বই পড়ার গুরুত্বের দিকটি প্রকাশিত হওয়ায় “উদ্দীপকের রাহেলার আচরণে 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক লাইব্রেরিতে স্বেচ্ছায় স্বাচ্ছন্দ্যচিত্তে বই পড়ে মানসিক বিকাশের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর মতে - বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় লাইব্রেরি হলো মনের হাসপাতাল। স্কুল-কলেজকৃত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা অতীব জরুরি।
উদ্দীপকের রাহেলা একজন সচেতন মা। তিনি তার মেয়ে রেণুকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্য বই পড়তে উৎসাহিত করেন, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে বই উপহার দেন এবং নিজের বাসায় পারিবারিক লাইব্রেরি গড়ে তুলেছেন। 'বই পড়া' প্রবন্ধেও লেখক লাইব্রেরিতে বই পড়া ও গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকের রাহেলা বেগমের উদ্দিষ্ট হলো তার মেয়ে রেণুকে যথার্থ শিক্ষায় শিক্ষিত করে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। সেই জন্যে তিনি তার বাড়িতে পারিবারিক লাইব্রেরি গড়ে তুলেছেন যাতে তার মেয়ে স্বেচ্ছায় স্বাচ্ছন্দ্যচিত্তে বই পড়ে নিজের মানস গঠন করতে পারে। 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকেরও চাওয়া- লাইব্রেরিতে স্বেচ্ছায় বই পড়ে বর্তমান প্রগতিশীল জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। জাতির মানসিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে লাইব্রেরিমুখী হওয়া। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
