| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক…’ a – বাণিজ্য, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে একধরনের শক্তি রপ্তানি। যার অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে করা হয়। পক্ষান্তরে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তরল খনিজ আমদানি করা হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
যখন এক দেশের সাথে অন্য দেশের পণ্যদ্রব্যের আদান-প্রদান হয়, তখন তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে বা বৈদেশিক বাণিজ্য বলে।
বাংলাদেশের সাথে চীনের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়াসহ আসিয়ান (ASEAN) সদস্যভুক্ত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ সাল অনুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে চীন থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করছে। যা মোট আমদানি ব্যয়ের শতকরা ২৭ ভাগ এবং আর্থিক মূল্য ১৪৩৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বাংলাদেশের আমদানির তুলনায় রপ্তানি কম হওয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ঘাটতি রয়েছে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বাণিজ্যটি হলো জনশক্তি রপ্তানি। বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখতে যেসব খাত নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে তার মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত রেমিটেন্স অন্যতম। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ জনশক্তির ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশের জনশক্তি একটি বিরাট সম্পদ। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে জনশক্তির ভূমিকা ব্যাপক। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র আয়তনের একটি বিশাল জনঅধ্যুষিত দারিদ্র্যপীড়িত দেশ। এদেশের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত। এদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য যে তিনটি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে তার মধ্যে জনশক্তি অন্যতম। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে জনশক্তি রপ্তানি বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে। জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় তা দেশের মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। জনশক্তি রপ্তানির ফলে দেশে বেকারত্ব হ্রাস পায়। এতে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতি সাধিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দরিদ্র জনবহুল দেশের জন্য জনশক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ জনশক্তি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বাণিজ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দুই দেশের মধ্যে সংঘটিত বাণিজ্যকে বোঝায়। উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ বাণিজ্যের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করা হলো: বৈদেশিক বাণিজ্যভুক্ত দেশে দেশীয় রপ্তানিযোগ্য প্রচলিত ও প্রচলিত পণ্য বিপণনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যভুক্ত দেশে দেশীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়ছে। শিল্পায়নের জন্য উদার ভিত্তিতে কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ আমদানির সুযোগসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে শিল্পের উন্নতিসাধনে সহায়তা দান করছে। দেশীয় চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক বাণিজ্যের দেশে অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আমদানি করা হয়। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে এসব শ্রমিকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, বৈদেশিক বাণিজ্যভুক্ত দেশে বাংলাদেশ স্বল্পসংখ্যক পণ্য রপ্তানি করে থাকে। রপ্তানির পণ্য অধিক না থাকায় রপ্তানি বাণিজ্যে উন্নতি লাভ করতে পারছে না। বৈদেশিক বাণিজ্যভুক্ত দেশগুলোতে কতিপয় প্রচলিত দ্রব্যের ওপর কোটা আরোপ করায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য হ্রাস পেয়েছে। পশ্চিমা শিল্পোন্নত দেশসমূহের বাণিজ্যিক জোট পণ্য রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে বলে বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে। পোশাক শিল্পে মাঝে মাঝে বড় দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে পোশাক রপ্তানি সময়মতো করা যায় না। শ্রমিকের অভাব, বিদ্যুৎ সমস্যা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা প্রভৃতি কারণে পণ্যদ্রব্য উৎপাদনে অনেক সময় লাগে। ফলে যথাসময় পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে খুব অসুবিধায় পড়তে হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উপরিউক্ত আলোচিত বিষয়সমূহ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান সুবিধা ও অসুবিধা।