| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাদেশের ন্যায় বিশ্বের…’ ঢাকা সিটি কলেজ ২০২৪ – কৃষি, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

বাংলাদেশের ন্যায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে একটি ফসলের চাষ করা হয়। ফসলটির বিজ্ঞানসম্মত নাম “Oryza Sativa”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
ভূমি ব্যবহার করে প্রাথমিক পর্যায়ের দ্রব্যাদি উৎপাদন যেমন— জমি চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাই কৃষি। যেমন— গম চাষ।
পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমি চা চাষের জন্য বেশি উপযোগী। সমুদ্রপৃষ্ঠের ৬০০ থেকে ১২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পার্বত্য ঢালু অঞ্চলে চা বাগান গড়ে তোলা হয়। এরূপ অঞ্চল অপেক্ষাকৃত শীতল এবং সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হলেও চা গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকে না। চা বাগান তৈরির জন্য এ ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শস্যটি ধান, যা মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের ফসল। চীনে সর্বাধিক উৎপাদিত এ খাদ্যশস্যটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য।
যেসব প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক নিয়ামক বা উপাদানের ওপর ধান চাষের সাফল্য নির্ভর করে সেগুলো হলো –
ভূপ্রকৃতি : উচ্চভূমি অপেক্ষা সমতল ও নিম্নভূমি ধান চাষের উপযোগী। বিশ্বের প্রায় ৯০ ভাগ ধান নদী গঠিত প্লাবন সমভূমি এবং বদ্বীপ সমভূমি অঞ্চলে উৎপন্ন হয়। যেমন— দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ের গায়ে ধানের চাষ করা হয়। যেমন- জাপান।
জলবায়ু : ধান চাষে জলবায়ু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। জলবায়ুর উপাদানগুলোর মধ্যে বৃষ্টিপাত ও উত্তাপ এ দুটি উপাদানের ওপর ধান চাষের উৎপাদন নির্ভর করে।
i. বৃষ্টিপাত : ধান চাষের জন্য বার্ষিক গড় ১০০-২৫০ সে.মি. বৃষ্টিপাতের দরকার। তবে যেসব স্থানে বৃষ্টিপাত ১৭৫-২২৫ সে.মি. সেসব স্থানে ধানের ফসল ভালো হয় ।
ii. তাপমাত্রা : ধান চাষের জন্য সাধারণত ১৮°-২৭° সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। ধান বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য ১৬° সে. অপেক্ষা অধিক তাপমাত্রা প্রয়োজন। চারা বৃদ্ধিকালীন সময় তাপমাত্রা ২২°-২৪° সে. মধ্যে থাকা আবশ্যক। বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ ধান উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে উৎপন্ন হয়।
iii. ৰায়ুপ্রবাহ : বায়ুপ্রবাহ ফসলের পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া প্রবাহমান বাতাস মৃত্তিকার নাইট্রোজেনের স্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে।
মৃত্তিকা : পলিযুক্ত উর্বর এঁটেল-দোঁআশ মাটি ধান চাষের জন্য সর্বাধিক উপযোগী। কারণ এ ধরনের মাটি অধিক পরিমাণ পানি ধারণ করে রাখতে সক্ষম।
পানির সান্নিধ্য : ধানের জমিতে পানির ঘাটতি হলে আশানুরূপ ফসল পাওয়া যায় না।
উদ্দীপকে এশিয়া মহাদেশের প্রধান খাদ্য শস্য-১' হলো ধান । ধানের দেশভিত্তিক উৎপাদন নিচে আলোচনা করা হলো—
চীন: ধান উৎপাদনে চীন বিশ্বে ১ম। ২০২১ সালে এ দেশে ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর জমি চাষ করে ২১ কোটি ৪৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করা হয়। এটা পৃথিবীর মোট উৎপাদিত ধানের প্রায় ২৭.৭৪% । চীনের হুনান প্রদেশ ধান উৎপাদনে প্রসিদ্ধ।
ভারত: ধান উৎপাদনে ভারত বিশ্বে ২য়। ২০২১ সালে এদেশে ৪ কোটি ৩৭ লক্ষ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করে ১৯ কোটি ৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপন্ন হয়। এটা পৃথিবীর মোট উৎপাদনের প্রায় ২৩.৫১%। ভারতের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি ও ব-দ্বীপ অঞ্চলে সর্বাপেক্ষা অধিক ধান উৎপন্ন হয়।
বাংলাদেশ: বর্তমানে ধাপ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়। ২০২১ সালে এ দেশ ১ কোটি ১৫ লক্ষ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয় এবং উৎপন্ন' ধানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ কোটি ৬৯ লক্ষ মেট্রিক টন। এটা পৃথিবীর মোট উৎপাদিত ধানের ৭.২১%। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই ধানের চাষ হয় ।
ইন্দোনেশিয়া: ধান উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বে তৃতীয়। ২০২১ সালে এ দেশের ১ কোটি ৬ লক্ষ ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চাষ করে ৫ কোটি ৪৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপন্ন হয়। এটা পৃথিবীর মোট উৎপাদিত ধানের প্রায় ৭.২৩% । জাভা দ্বীপ ধান চাষের জন্য প্রসিদ্ধ।
ভিয়েতনাম: ধান উৎপাদনে ভিয়েতনাম বর্তমান বিশ্বে পঞ্চম। ২০২১ সালে এ দেশে ৭৪ লক্ষ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করে ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করা হয়। এটি পৃথিবীর মোট উৎপন্ন ধানের প্রায় ৫.৭৫% । ভিয়েতনাম বিদেশে চাল রপ্তানি করে।
এছাড়া এশিয়ার থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান ২০১৯ সালে বিশ্বে ধান উৎপাদনে যথাক্রমে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম স্থানের অধিকারী। অর্থাৎ সারা বিশ্বে ধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোই প্রধান।