'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে জমিদারের গোমস্তার নাম অধর রায়।
রসিক দুলের পায়ের ধুলা কারও কাছে এত মূল্যবান হতে পারে এ কথা ভেবে রসিক হতবুদ্ধির মতো দাঁড়িয়ে রইল।
কাঙালীর মা মৃত্যুশয্যায় তার স্বামীর পায়ের ধুলা নিতে চেয়েছে। তাই অভাগী সন্তান কাঙালীকে দিয়ে তাকে অন্য গ্রাম থেকে ডেকে পাঠায়। অভাগীর যখন আর জ্ঞান নেই তখন তার স্বামী রসিক সেখানে উপস্থিত হয়। অভাগীকে সারা জীবন সে অবজ্ঞা করেছে অথচ তার পায়ের ধুলার জন্য অভাগী তাকে স্মরণ করে। পৃথিবীতে তার পায়ের ধুলারও যে কারও প্রয়োজন আছে এ কথা তার কল্পনাতীত। তাই মৃত্যুপথযাত্রী অভাগীর অবশ হাত পায়ের ধুলা নিতে গেলে সে হতবুদ্ধির মতো দাঁড়িয়ে রইল।
বর্ণ পরিচয়ের কারণে কাঙালী যেভাবে অবহেলিত হয়েছে সেদিক থেকে উদ্দীপকের চন্ডাল তার প্রতিনিধি।
চন্ডাল, মুচি প্রভৃতি বর্ণের মানুষেরা সমাজে নিম্ন বর্ণ হিসেবে পরিচিত। সমাজে তাদের মর্যাদা নির্ধারিত হয় বর্ণ পরিচয় দ্বারা। এ কারণে সবার কাছে তারা তুচ্ছ, অবহেলার পাত্র।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে নিম্ন বর্ণের হওয়ার কারণে কাঙালী অবহেলিত হয়েছে। মায়ের সৎকারের জন্য জমিদারবাড়িতে কাঠ চাইতে গিয়ে সে চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে। জমিদারের কর্মচারী তাকে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এতকিছুর পরও সে মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি। কাঙালী দুলে সম্প্রদায়ের বলে যেমন ঘৃণিত হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে উদ্দীপকের চন্ডালও একইভাবে ঘৃণিত। চন্ডাল বলে সে অস্পৃশ্য, অবহেলিত। এই মিথ্যা জাত-পরিচয় এবং এর জন্য অবহেলিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের চন্ডাল 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কাঙালীর প্রতিনিধি।
"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা মনোভাবই 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের লেখকের প্রত্যাশা।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষে মানুষে যে বৈষম্য তা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই উচ্চবর্ণের প্রবল প্রতাপে নিম্ন বর্ণ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা শোষণ, অবহেলার শিকার হচ্ছে। কিন্তু কোনো সুদ্ধ সমাজে এমন অবস্থা চলতে দেওয়া যেতে পারে না। অবশ্যই এর প্রতিকার করা উচিত।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখক এই অবস্থা পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছেন। তাই তিনি সামন্তবাদী সমাজে বর্ণবাদের নির্মম রূপটি তুলে ধরেছেন। তিনি দেখিয়েছেন মানুষের মৃত্যুতেও বর্ণবাদীরা তাদের মনোভাব বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করেনি। উদ্দীপকেও আমরা 'বর্ণবাদের প্রবল প্রতাপ লক্ষ করি। এ কারণেই চন্ডাল ঘৃণিত। এতটাই সৃণিত যে, তার মানুষ পরিচয়টিই অস্বীকৃত।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আজ যে ঘৃণিত তার মাঝেও মহৎ কিন্তু থাকতে পারে। হয়তো এই অবহেলিত মানুষটিই কর্মের মাধ্যমে মহৎ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। আজ যে তাকে অবহেলা করছে কালই হয় তো সে তার গুণগান করবে। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে লেখকের প্রত্যাশাও এমনই। মানুষই একসময় তাদের জাত-ধর্ম-বর্ণের দাসত্ব ছেড়ে মানবতাবোধে জেগে উঠবে। সেদিন ধর্ম নয়, মানবতার জয় হবে। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
