চেয়ারম্যান সাহেবের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিরাট আয়োজন। এলাকার ধনী গরিব সবাইকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। দরিদ্র কৃষক খয়ের আলী, ছেলে রনি ও মেয়ে রেণুকে নিয়ে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বসার স্থানে ভুল করে খেতে বসেছেন। চেয়ারম্যানের স্ত্রী চিৎকার করে বললেন, ‘এসব অসভ্য ছোট লোকদের দাওয়াত দেওয়াই ভুল হয়েছে।’ চেয়ারম্যানে সাহেব স্ত্রীকে বুঝিয়ে বললেন, ‘এরা সকলেই আমার মেহমান।’ তিনি রনি ও রেণুকে আদর করলেন এবং স্ত্রীর আচরণের জন্য খয়ের আলীর নিকট দুঃখ প্রকাশ করলেন।
অভাগীকে নদীর চড়ায় মাটি দিতে বলেছিল ভট্টাচার্য মহাশয়।
মাকে বিশ্বাস করাই কাঙালীর অভ্যাস, কারণ মা ছাড়া সে অন্য কারও সাহচর্য লাভ করেনি।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে জাতপ্রথার ঘৃণ্য দিক ও মায়ের প্রতি সন্তানের গভীর বিশ্বাসের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। রোদে দাঁড়িয়ে অভাগী ঠাকুরদাস মুখুয্যের স্ত্রীর সৎকার দেখছিল বলে তার একমাত্র ছেলে কাঙালী তার ওপর অভিমান করে। অভাগী তখন ছেলেকে বলে সে সতী-লক্ষ্মী মা-ঠাকরুনকে রথে করে যেতে দেখেছে। কাঙালী ছোটবেলা থেকে শুধু মায়ের সাহচর্যে বড় হয়েছে। মায়ের কথাই তার কাছে সত্য। তাই সে স্বাভাবিক নিয়মে মায়ের কথাই বিশ্বাস করে। কারণ মাকে বিশ্বাস করা তার অভ্যাস।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের স্ত্রীর আচরণে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের শ্রেণিবৈষম্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
পৃথিবীতে নানা ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষ রয়েছে। কিছু মানুষ তাদের মধ্যে ভেদাভেদের দেয়াল তুলে রাখে। ফলে মানবতা বিপন্ন হয়। মানুষ শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়।
উদ্দীপকে চেয়ারম্যান সাহেবের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এলাকার সবাইকে নিমন্ত্রণ করা হয়। নিমন্ত্রণে দরিদ্র কৃষক খয়ের। আলী ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভুল করে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বসার স্থানে খেতে বসে। এতে চেয়ারম্যানের স্ত্রী রেগে যান। খয়ের আলীকে অসভ্য, ছোটলোক বলে অপমান করেন। তার এই আচরণ 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের শ্রেণিবৈষম্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। আলোচ্য গল্পে নিম্নবর্ণের হওয়ায় কাঙালী মায়ের সৎকারের জন্য কাঠ চাইতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছে। নিচু জাতের বলে জমিদারের নির্দেশে তার কর্মচারীরা। তাকে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এইভাবে উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের স্ত্রীর আচরণে 'অভাগীর স্বর্ণী গল্পের শ্রেণিবৈষম্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
"সমাজের ধনী ব্যক্তিরা যদি উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মতো হতো তাহলে অভাগীকে বৈষম্যের শিকার হতে হতো না।"- উক্তিটি যথার্থ।
তৎকালীন হিন্দু সমাজে জাত-পাতের ঘৃণ্য রূপ প্রবলভাবে বিস্তার লাভ করে। শ্রেণিবৈষম্য মানুষকে মানবিকতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আর মানবিকবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরা মানুষকে মানুষ হিসেবে। মর্যাদা দেয়, সম্মান করেন, ভালোবাসেন।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যান একজন মহৎ ও উদার প্রকৃতির মানুষ। তিদি মিথ্যা আভিজাত্যের গৌরবে মোহাবিষ্ট না থেকে সাধারণ মঞ্জি চাষিকে আদর-যত্ন করেছেন। তিনি স্ত্রীকে বোঝান যে সবাই আর মেহমান। তিনি স্ত্রীর আচরণের জন্য খয়ের আলীর কাছে দুঃখও প্রকাশ করেন। এখানে তার চেতনায় ভ্রাতৃত্ব, সাধ্য ও মানবিকতার নিদর্শন ফুটে ওঠে। অন্যদিকে 'অভাগীর স্বর্ণী গল্পে সামন্ডপ্রড় ঠাকুরদাস মুখুয্যে ও অধর রায়ের নিষ্ঠুরতায় কাঙালী তার মায়ের সৎকার পর্যন্ত করতে পারেনি। কাঙালীকে তারা নিচু জাতের বলে ঘাড় ধরে বের করে দিয়েছে। কিন্তু ঠাকুরদাস ও অধর রায় যদি চেয়ারম্যান সাহেবের চেতনাকে ধারণ করত তবে অভাগীকে বৈষম্যের শিকার হতে হতো না।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ধনীরা বৈষম্যপূর্ণ মানসিকতার কারণে কাঙালীকে মায়ের সৎকারে সাহায্য করেনি। তারা যদি উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের মতো মানবিক হতো তাহলে অভাগীকে শ্রেণিবৈষম্যের শিকার হতে হতো না। তার পে ইচ্ছা পূরণ হতো। তাই বলা যায় যে, প্রখোস্ত উক্তিটি যথার্থ।
