| ㅤ | A. Nayan29 Oct 2026 (2 hours ago) |
সৃজনশীলঃ ‘যুক্তি-১ : সব…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১ – অনুমান, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (এইচএসসি)

যুক্তি-১ : সব দার্শনিক হন উদার
সক্রেটিস হন দার্শনিক
অতএব, সক্রেটিস হন উদার।
যুক্তি-২:সক্রেটিস হন উদার ।
প্লেটো হন উদার ।
রাসেল হন উদার।
অতএব, সব দার্শনিক হন উদার।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
আরোহ অনুমান যে সব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে তাকে আরোহের ভিত্তি বলে।
অনুমান হলো জ্ঞাত বিষয় থেকে অজ্ঞাত বিষয়ে উপনীত হওয়ার একটি মানসিক প্রক্রিয়া।
কোনো জানা বিষয়ের ভিত্তিতে অজানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা করার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে। অনুমানের ভাষায় প্রকাশিত রূপই যুক্তি। তবে অনুমান ভাষার প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মানসিকভাবে অবস্থান করে । তাই অনুমানকে একটি মানসিক প্রক্রিয়া বলে।
যুক্তি-১ এর মাধ্যমে অরোহ অনুমান প্রতিফলিত হয়েছে।ব্যাখ্যা করা হলো-
যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে অনুমিত হয় তাকে অবরোহ অনুমান বলে। অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্য একটি হতে পারে; আবার একাধিকও হতে পারে। এই অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয় না। তবে আশ্রয়বাক্যের সাথে সমান ব্যাপক হতে পারে। অবরোহ অনুমানে যুক্তির নিয়ম অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। তাই এ অনুমানের লক্ষ্য থাকে আকারগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা।
তেমনি যুক্তি-১ এ দেখা যাচ্ছে যে, এখানে দুটি আশ্রয়বাক্যের অনিবার্য সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাছাড়া এখানে অবরোহ অনুমানের অন্যান্য বিষয়গুলোও অনুসরণ করা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, যুক্তি-১ এর মাধ্যমে অবরোহ অনুমান প্রতিফলিত হয়েছে।
যুক্তি-১ এর মাধ্যমে অবরোহ অনুমান প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তি-২ এর মাধ্যমে আরোহ অনুমান নির্দেশিত হয়েছে। আর অবরোহ ও আরোহ অনুমানের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে।নিচে এদের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে অনুমিত হয় তাকে অবরোহ অনুমান বলে। যুক্তি-১ - এ দুটি আশ্রয়বাক্যের অনিবার্য সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়েছে। আর এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে কম ব্যাপক হয়েছে। তাই যুক্তি-১ এর মাধ্যমে অবরোহ অনুমান প্রতিফলিত হয়েছে। অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত বিশেষ বাক্য হতে পারে; আবার সার্বিক বাক্যও হতে পারে। এই প্রকার অনুমানে আশ্রয়বাক্যের সত্যতা বিচার করা হয় না। এখানে যুক্তির নিয়ম অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। তাই অবরোহ অনুমানের লক্ষ্য থাকে আকারগত বা রূপগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা।
অপরপক্ষে, ‘যুক্তি-২' মাধ্যমে অবরোহ অনুমান প্রতিফলিত হয়েছে।
যেখানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের পর্যবেক্ষণ থেকে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আর যে অনুমানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে আরোহ অনুমান বলে। আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় সেটি সর্বদা সার্বিক হয়। এই প্রকার অনুমানের ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্যগুলো বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়। আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই প্রকার অনুমানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হতে পারে। আর আরোহ অনুমানের লক্ষ্য থাকে আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতা, প্রতিষ্ঠা করা।
তাই বলা যায় যে, অবরোহ ও আরোহ অনুমানের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে।