| ㅤ | A. Nayan29 Oct 2026 (3 hours ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০২১ – আরোহের প্রকারভেদ, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ বলে।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকে, তাকে অপ্রকৃত আরোহ বলে।
আরোহমূলক লম্ফ হলো জানা থেকে অজানায়, নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিত, কিছু থেকে সকলে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। বস্তুত অপ্রকৃত আরোহে আরোহমূলক লম্ফ অনুসরণ করা হয় না। যেমন- কোনো কলেজের একাদশ শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীকে পর্যবেক্ষণ করে বলা হলো, সকল শিক্ষার্থী হয় মেধাবী। এখানে আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকার কারণে এটি একটি অপ্রকৃত আরোহের দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকে B ও C দিয়ে যথাক্রমে প্রকৃত ও অপ্রকৃত আরোহকে নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে A চিহ্নিত অংশকে B ও C অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। এখানে A আরোহ অনুমান হলে B হবে প্রকৃত আরোহ এবং C হবে অপ্রকৃত আরোহ। কারণ আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ভিত্তিতে আরোহ অনুমানকে প্রকৃত ও অপ্রকৃত আরোহে বিভক্ত করা হয়।
প্রকৃত আরোহ হলো একটি বৌদ্ধিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা আরোহমূলক লক্ষের সাহায্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি। যেমন- ঢাকার কাক হয় কালো, রাজশাহীর কাক হয় কালো, খুলনার কাক হয় কালো, অতএব বাংলাদেশের সকল কাক হয় কালো। এখানে আরোহমূলক লম্ফের সাহায্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে এটি প্রকৃত আরোহের দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, যে অনুমান প্রক্রিয়ায় আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকে তাকে অপ্রকৃত আরোহ বলে। যেমন- একটি ঝুড়িতে পাঁচটি আম আছে। প্রতিটি আমের স্বাদ পরীক্ষা করে বলা হলো, সকল আম হয় মিষ্টি। আরোহমূলক লম্ফ না থাকার কারণে এই দৃষ্টান্তটি অপ্রকৃত আরোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই উদ্দীপকে B ও C দিয়ে প্রকৃত আরোহ ও অপ্রকৃত আরোহকে বোঝায়।
উদ্দীপকে D ও G দিয়ে যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং পূর্ণাঙ্গ আরোহকে নির্দেশ করে। নিচে এদের মধ্যে বিদ্যমান আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
পূর্ণাঙ্গ আরোহ ও বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রকৃতি পর্যালোচনা করলে এদের মধ্যে কিছু বিষয়ে সাদৃশ্য এবং কিছু বিষয়ে বৈসাদৃশ্য দেখা যায়। কারণ বৈজ্ঞানিক আরোহ ও পূর্ণাঙ্গ আরোহ উভয়ই আরোহের অন্তর্ভুক্ত। উভয় আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হতে পারে। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তেমনি পূর্ণাঙ্গ আরোহেও সকল দৃষ্টান্তের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বৈজ্ঞানিক আরোহ ও পূর্ণাঙ্গ আরোহের বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত। আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য আরোহমূলক লম্ফ আরোহে বিদ্যমান। অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ আরোহ অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত। আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য আরোহমূলক লম্ফ এখানে উপস্থিত থাকে না। বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহ কয়েকটিমাত্র দৃষ্টান্ত গণনা করে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এখানে সবগুলো দৃষ্টান্ত গণনা করেই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে হয়। বৈজ্ঞানিক আরোহ অনির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে যা একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য। অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ আরোহ সীমিতসংখ্যক ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে। তাই এর সিদ্ধান্ত দেখতে সার্বিক যুক্তিবাক্যের মতো হলেও আসলে এটি সীমিতসংখ্যক ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে কোনো কিছু ব্যক্ত করে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, পূর্ণাঙ্গ আরোহ ও বৈজ্ঞানিক আরোহ বিভিন্ন দিক থেকে পৃথক।