পুরুষগণ আমাদিগকে সুশিক্ষা হইতে পশ্চাৎপদ রাখিয়াছেন বলিয়া আমরা অকর্মণ্য হইয়া গিয়াছি। ভারতে ভিক্ষু ও ধনবান এই দুই দল লোক অলস; এবং ভদ্রমহিলার দল কর্তব্য অপেক্ষা অল্প কাজ করে। আমাদের আরামপ্রিয়তা খুব বাড়িয়াছে। আমাদের ‘হস্ত, পদ, মন, চক্ষু ইত্যাদির সদ্ব্যবহার করা হয় না। দশজন রমণীরত্ব একত্র হইলে ইহার উহার- বিশেষত আপন আপন অর্ধাঙ্গের নিন্দা কিংবা প্রশংসা করিয়া বাকপটুতা দেখায়। আবশ্যক হইলে কোন্দলও চলে।
আমাদের দেশের রমণীরা হাওয়ার শাড়ি পরেন।
লেখিকা বাঙালি পুরুষের পোশাককে সূক্ষ্ম ও বায়ুসঞ্চালনের উপযোগী হিসেবে তুলে ধরেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা সূক্ষ্ম হাস্যরস সহযোগে বাঙালি পুরুষের পোশাক-পরিচ্ছদ তুলে ধরেছেন। খাদ্যাভ্যাস সরস, সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় বাঙালি পুরুষের দেহ তেলতেলে ও কোমল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ফলে তাদের পরিধেয় বস্ত্রও অতি সূক্ষ্ম। বিশেষত তাদের পরিধেয় ধুতি-চাদর তৈরি হয় সূক্ষ্ম শিমুল তুলা থেকে। এ ধরনের হালকা পোশাক বায়ু সঞ্চালনের বিশেষ উপযোগী। এছাড়া কখনো কখনো তারা আধুনিক সভ্যতার অনুকরণে কোট-শার্ট প্রভৃতি ইউরোপীয় পোশাক পরে থাকে।
উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে উল্লিখিত নারীদের কর্মবিমুখতার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা নিজেদের নির্বুদ্ধিতার জন্য নারীদের ভর্ৎসনা করেছেন। নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টাকে তিনি ব্যঙ্গ করেছেন। সেই নারী সঙ্গে পুরুষ সবাইকে কর্মমুখী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালিকে দুর্বল নিরীহ বলে কটাক্ষ করেছেন। বাঙালি পুরুষরা কষ্টসহিষ্ণু নয়। তারা আলস্যে অভ্যস্ত। তাদের দেখাদেখি তাদের রমণীরাও শ্রমবিমুখ হয়ে উঠেছে। তারা কোমলাঙ্গ হওয়ায় রান্নার কাজে সহিষ্ণুতা অর্জন করেনি। উদ্দীপকে পুরুষদের প্ররোচনায় নারীদের অকর্মণ্য হয়ে ওঠার দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এদেশের ভদ্রমহিলারা তাদের কর্তব্যের তুলনায় কম পরিশ্রম করে। তাদের আলোচনায় অন্যের নিন্দা, বাকপটুতার মতো অসংগতি লক্ষণীয়। নারীদের শ্রমবিমুখতার দিক দিয়ে উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এভাবে উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের পুরুষের দেখাদেখি নারীদের আলস্যপ্রিয় হয়ে ওঠার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটিতে যদি রমণীদের পাশাপাশি বাঙালি পুরুষদের অলসতার দিকটি উঠে অসত তাহলে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তুর প্রতিনিধিত্ব করত" মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ লেখক 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি নারী ও পুরুষের আলস্য ও কর্মবিমুখতার কথা বলেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' নামটি দ্বারা আলস্য ও নিষ্ক্রিয়তাকে বোঝানো হয়েছে। বাঙালি নারী-পুরুষ সকলেই শারীরিক পরিশ্রম করার থেকে অলসভাবে সময় কাটানোকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এই মানসিকতা বাঙালি জাতির উন্নতির পথে একটি বড়ো বাধা, যা তাদের অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে রেখেছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি নারীদের মূর্তিমান কবিতা বলে কটাক্ষ করেছেন। লেখিকা বাঙালির আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে দেখিয়েছেন যে, এরা শ্রমবিমুখ, অকর্মণ্য, দুর্বল, অলস জাতি। বাঙালি নারীরা এই ক্ষেত্রে আরও অগ্রণী। তারা নিজেদের খাবার রান্না করার তাপটুকু সহ্য করতে নারাজ। উদ্দীপকে পুরুষের কুচক্রান্তে নারীরা শিক্ষাবিমুখ হয়ে অকর্মণ্য থাকার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এদেশের ভদ্রমহিলারা কর্তব্যের চেয়ে কম কাজ করে। এজন্য দশজন নারী একত্র হলে পরনিন্দা, পরচর্চা বা কোন্দল বাধিয়ে দেয়।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী-পুরুষ উভয় শ্রেণিকে অকর্মণ্য বলে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি পুরুষরা কায়িক শ্রমের কৃষিকাজ এবং অনিশ্চিত শ্রমলব্ধ বাণিজ্য করতে প্রস্তুত নয়। এজন্য তারা জমি কর্ষণ করে ফসল ফলানোর চেয়ে কৃষি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকে প্রাধান্য দেয়। এই দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এই বিচারে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
