এসো, ছেড়ে এসো, সখী, কুসুমশয়ন-
বাজুক কঠিন মাটি চরণের তলে।
কত আর করিবে গো বসিয়া বিরলে
আকাশকুসুমবনে স্বপন চয়ন!
দেখো, ওই দূর হতে আসিছে ঝটিকা-
স্বপ্নরাজ্য ভেসে যাবে খর অশ্রুজলে।
ভারতবর্ষ সরোবর হলে বাঙালি তাতে পদ্মিনী।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা রসাত্মক ভঙ্গিতে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসকে মধুর, সুস্বাদু ও রসালো বলে উল্লেখ করেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসকে তিনটি গুণের ধারক বলে বর্ণনা করেছেন। বাঙালির নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় পুঁইয়ের ডাঁটা, পুঁটি মাছের ঝোল, সজিনা ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যা অত্যন্ত সরস। মিষ্টান্ন দ্রব্য হিসেবে বাঙালি ঘি, দুধ, সর, ছানা, ননি ও সন্দেশ গ্রহণ করে। এ জাতীয় খাদ্যদ্রব্য অত্যন্ত সুস্বাদু। বাঙালি ফল হিসেবে আম, কাঁঠাল খায়, যা অত্যন্ত রসালো ও মধুর। এই তিনটি গুণসমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা নিয়ে বাঙালির খ্যাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠেছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের ইতিবাচক কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষার দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা দেখিয়েছেন- বিনা শ্রমে কোনোকিছু পাওয়া যায় না। বাঙালি জাতির শ্রমবিমুখতার জন্য তারা পিছিয়ে পড়েছে। একমাত্র পরিশ্রমই পারে তাদের মর্যাদাবান করে তুলতে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির কর্মবিমুখতার প্রতি কটাক্ষ করে তাদের পরিশ্রমী হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। শ্রমবিমুখ বাঙালি পরিশ্রম করে ভাগ্যের উন্নতি করার পক্ষপাতী নয়। কৃষি ও ব্যাবসা উপার্জনের এই দুটি মাধ্যমকে বাঙালি সহজ করে নিয়েছে। কৃষিকাজ করা অপেক্ষা কৃষিতে ডিগ্রি অর্জনের পক্ষে তারা। অনিশ্চিত শ্রমলব্ধ বাণিজ্যের চেয়ে নকল দ্রব্য উৎপাদন করার প্রতি তাদের মনোযোগ বেশি। উদ্দীপকের কবি কর্মবিমুখতা পরিহার করে বাস্তবের কঠিন ভূমিতে পা রাখতে বলেছেন। অবাস্তব কল্পনায় ডুবে সময়ক্ষেপণ না করে বাস্তবের মধ্য দিয়ে স্বপ্নরাজ্য ভাসিয়ে দিতে বলেছেন, যা 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের ইতিবাচক কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের প্রত্যাশা একই ধারায় প্রবাহিত" মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ উভয় স্থানেই বাঙালি জাতির শ্রমবিমুখতা পরিহার করে কর্মমুখী ও বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে দেখা যায়, বাঙালিরা নিজেদের অলসতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে নিজেদের সমাজে নিজেদের সঠিক স্থান করে নিতে পারছে না। লেখিকা এই অলসতাকে কটাক্ষ করে বলেন যে, বাঙালিকে কঠোর পরিশ্রম এবং আত্ম-উন্নয়ন করতে হবে। এটিই তাদের উন্নতির একমাত্র পথ, যা তাদের নিজেদের ভাগ্য গড়ে তোলার সুযোগ করে দেবে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা শ্রমবিমুখ অলস বাঙালি নর-নারীদের কর্মকান্ডের প্রতি তীব্র কটাক্ষ করেছেন। ব্যাবসায় পরিশ্রম আবশ্যক বলে সকল পণ্যের ব্যাবসাকে বাঙালি আয়ত্তে নিয়েছে। কর্কশ অনুর্বর মাটিকে কর্ষণ করে চাষ করার চেয়ে কৃষি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকে বেছে নিয়েছে তারা। বাঙালি নারীরাও কোমল অঙ্গের অধিকারিণী। আর এসব বিষয় উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে লেখিকা বাঙালিকে পরিশ্রমী হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি অবাস্তব কল্পনার মায়াজাল ছিঁড়ে বাস্তবের জগতে পা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
উদ্দীপকের কবি মানবসংগ্রামের বন্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিথ্যা স্বপ্নকে ভাসিয়ে দিতে বলেছেন। অবাস্তব কল্পনার ভেতরে ডুবে থাকলে মুক্তি অসম্ভব। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির আলস্যপ্রিয়তার বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেছেন। অনায়াসলব্ধ পরিশ্রমহীন কাজকর্ম ত্যাগ করে ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করতে কর্মঠ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
