A. Nayan
A. Nayan
22 May 2026 (4 months ago)
Dhaka, Narayanganj

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন গদ্যের অনুশীলনী প্রশ্নের উত্তর, ১ম সৃজনশীল


Listen to this article
📘 ক্লাস: 11-12🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📖 ৩য় অধ্যায় : বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন🔢 সৃজনশীল নং:📅 সাল: ২০২৬⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় বিশ্বব্যাপী মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, হতাশা ও হাহাকারে উপমহাদেশ ছিল নানা অবিচারে বিপর্যস্ত ও রূপান্তরিত। এমনই এক পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতায় বিনির্মাণ করলেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের মহামহিম এক প্রত্যাশাময় জগৎ। তিনি ক্রমে জড়িয়ে নিলেন শোষণ-বঞ্চনাহীন, শ্রেণিবৈষম্যহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ সৃষ্টি করতে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সাম্যের গান গাইলেন। এক সময় তিনি হয়ে উঠলেন ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার আদায়ের কলমসৈনিক। শোষণ, বঞ্চনা ও সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ আজও আমাদের প্রেরণার উৎস।

উত্তর:

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মঙ্গল সাধন ও সত্য-সুন্দরের প্রকাশ করা।

উত্তর:

এ কথার মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন, সাহিত্য রচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ করা। যদি কেউ শুধু নিজের স্বার্থ, অর্থ বা খ্যাতির জন্য লেখে, তাহলে তা প্রকৃত সাহিত্য নয়। মানুষের উপকার ও সত্য প্রকাশ ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে কলম ধরা অন্যায় বা মহাপাপ।

উত্তর:

উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনায় মানবকল্যাণ, সাম্যবাদ ও শোষণবিরোধী চেতনার প্রতিফলন দেখা যায়, যা ‘বাংলার নব লেখকদের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের মূল বৈশিষ্ট্য।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর প্রবন্ধে বলেছেন, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ সাধন ও সমাজের মঙ্গল করা। লেখকের কাজ হলো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা। উদ্দীপকে দেখা যায়, কাজী নজরুল ইসলাম শোষণ, বঞ্চনা, ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। তিনি ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লিখেছেন এবং সাম্যের গান গেয়েছেন।

এভাবে মানুষের মুক্তি, সমতা ও মানবতার পক্ষে তাঁর সাহিত্য সাধনা বঙ্কিমচন্দ্রের মানবকল্যাণমূলক সাহিত্য ভাবনারই বাস্তব প্রতিফলন।

উত্তর:

হ্যাঁ, উদ্দীপকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

‘বাংলার নব লেখকদের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন, সাহিত্য মানুষের মঙ্গল ও সমাজের কল্যাণের জন্য রচনা করা উচিত। লেখকের কাজ হলো সত্য, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে কথা বলা। শুধু অর্থ বা খ্যাতির জন্য লেখা উচিত নয়।

উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনায় সেই আদর্শই দেখা যায়। তিনি শোষণ, বঞ্চনা, ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লিখেছেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাম্যের সমাজ গড়ার জন্য তিনি কলম ধরেছিলেন। ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণই ছিল তাঁর সাহিত্যের মূল লক্ষ্য।

তাই বলা যায়, নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনার মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মানবকল্যাণমূলক সাহিত্য ভাবনা ও নতুন লেখকদের প্রতি দেওয়া উপদেশ যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

103 Views
No Comments
Share
2
No comments to “বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন গদ্যের অনুশীলনী প্রশ্নের উত্তর, ১ম সৃজনশীল”