
ছবি: জৈনিক লেখক তাঁর ভক্তকে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন এবং তার সেলফি তুলে রাখছেন যাতে তার জনপ্রিয়তা অন্যকে দেখাতে পারেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ইংরেজি উপন্যাসের নাম Rajmohans Wife।
লেখক এখানে বলতে চেয়েছেন, লেখায় অলংকার বা ব্যঙ্গ ঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
কারণ, অপ্রয়োজনীয় বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে লেখার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। তখন সেই অংশ বাদ দেওয়াই ভালো।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
“যে অলংকার লেখাকে সুন্দর না করে উল্টো জটিল করে, তা কেটে ফেলাই ভালো।”
‘বাংলার নব লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখক নতুন লেখকদের সঠিকভাবে লেখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, যশ বা খ্যাতির জন্য লেখা উচিত নয়। কারণ শুধু জনপ্রিয় হওয়ার চিন্তা করলে লেখার মান কমে যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন লেখক ভক্তকে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন এবং আবার সেলফি তুলছেন নিজের জনপ্রিয়তা দেখানোর জন্য। এটি খ্যাতির প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহকে বোঝায়।
রচনাতেও লেখক এমন মানসিকতাকে নিরুৎসাহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, একজন প্রকৃত লেখকের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভালো ও মানসম্মত লেখা তৈরি করা, শুধু জনপ্রিয়তা পাওয়া নয়।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
“ভালো লেখক খ্যাতির পেছনে ছোটেন না, ভালো লেখার পেছনে ছোটেন।”
ঘ.
লেখকের চেতনাবোধ কখনোই যশ বা খ্যাতির মোহে আবদ্ধ হতে পারে না— উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য।
‘বাংলার নব লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখক নতুন লেখকদের প্রকৃত সাহিত্যচর্চার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, একজন সত্যিকারের লেখকের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সুন্দর, মানসম্মত ও মানুষের উপকারে আসে এমন লেখা সৃষ্টি করা। শুধু নাম, খ্যাতি বা জনপ্রিয়তার জন্য লিখলে সেই লেখায় আন্তরিকতা থাকে না। ফলে লেখার মানও নষ্ট হয়ে যায়।
লেখক আরও বোঝাতে চেয়েছেন, ভালো লেখা হলে সম্মান ও জনপ্রিয়তা একসময় নিজে থেকেই আসবে। তাই লেখকের উচিত যশের পেছনে না ছুটে নিজের চিন্তা, মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে মনোযোগ দিয়ে লেখা।
উদ্দীপকের ছবিতে দেখা যায়, একজন লেখক তার ভক্তকে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন এবং একই সাথে সেলফি তুলে নিজের জনপ্রিয়তা প্রকাশ করতে চাইছেন। অর্থাৎ তিনি মানুষের কাছে নিজের খ্যাতি দেখাতে আগ্রহী। এটি একজন লেখকের মধ্যে যশ ও পরিচিতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করে।
কিন্তু আলোচ্য রচনায় লেখক এ ধরনের মানসিকতাকে সমর্থন করেননি। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত খ্যাতির লোভ একজন লেখককে তার মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তখন লেখক সাহিত্যচর্চার চেয়ে নিজের প্রচারেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে লেখার গভীরতা, সৌন্দর্য ও মান ধীরে ধীরে কমে যায়।
একজন প্রকৃত লেখক সবসময় সাহিত্যকে ভালোবাসবেন, মানুষের কল্যাণের কথা ভাববেন এবং নিজের সৃষ্টিকে উন্নত করার চেষ্টা করবেন। তিনি জনপ্রিয় হওয়ার জন্য নয়, বরং সত্য ও সুন্দর প্রকাশ করার জন্য লিখবেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিষয়টি একজন লেখকের খ্যাতির প্রতি আকর্ষণকে প্রকাশ করলেও আলোচ্য রচনার মূল বক্তব্য হলো— প্রকৃত লেখক কখনোই যশ বা খ্যাতির মোহে আবদ্ধ হন না।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
“প্রকৃত লেখক খ্যাতির জন্য লেখেন না, ভালো লেখার জন্য লেখেন।”