বাংলা বিষয়ের শিক্ষক শাখাওয়াত স্যারের মুখে বাংলার রূপকথার গৌরবময় ইতিহাস জানতে পেরে মাহমুদ পুলকিত হয়। রূপকথার গল্প শোনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মে তার ভেতর। দাদির কাছে গিয়ে আবদার করে রূপকথার গল্প শোনার। কিন্তু দাদি হিন্দি সিরিয়াল দেখায় মগ্ন। দাদি বলে সেগুলো কি আর এখন মনে আছে? তার চেয়ে হিন্দি সিরিয়াল দেখ। এগুলোতে অনেক মজা পাবি। দাদির এমন কথায় মাহমুদের মন খুব খারাপ হয়।
মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
নচেৎ এ সকল কেবলি ভুয়া, কেবলি ফক্কিকার।"-পল্লিসাহিত্যের প্রতি যত্নশীল না হওয়ার কুফল সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখক এ কথা বলেছেন।
পল্লিসাহিত্য আমাদের দেশের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। একসময় এ দেশের পল্লিসাহিত্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। বর্তমানে মানুষের রুচির পরিবর্তনে এগুলো লুপ্ত হতে চলেছে। ফলে পল্লিসাহিত্যের উপাদানগুলো এখন ধ্বংসের মুখে। অথচ অতীতে সর্বস্তরের মানুষ এই পল্লিসাহিত্য সম্পর্কে জানত এবং চর্চা করত। আর এখন সেগুলো অনাদৃত হয়ে পড়ে আছে। যদি চর্চার অভাবে এগুলো এভাবেই পড়ে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে এগুলোর আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তাই পল্লিজননীর সন্তানদের উচিত এগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, চর্চা করা। তা না হলে অবহেলা ও অনাদরে একসময় এগুলো বিলীন হয়ে যাবে। এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে।
উদ্দীপকের মাহমুদের মনোভাবে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে বর্ণিত পল্লিসাহিত্যের প্রতি প্রাণের টান ও মানবিক আবেদনের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকিয়ে রয়েছে। পল্লিসাহিত্যের এই সম্পদ বাঙালির প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে। পল্লির প্রাচীন সম্পদের মধ্যে অন্যতম একটি হলো রূপকথা।
'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে লেখক পল্লিসাহিত্যের অনুষঙ্গগুলোকে অমূল্য সম্পদ বলে উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ছড়া, উপকথা, রূপকথা, পল্লিগান ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো পল্লির সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার কথা প্রকাশ করে। গ্রামবাংলার মানুষের ধ্যানধারণা, ভাব, কল্পনা ও অনুভূতির সঙ্গে লোকসাহিত্যের বিভিন্ন অনুষঙ্গ জড়িয়ে রয়েছে। উদ্দীপকের মাহমুদের মধ্যে 'পল্লিসাহিত্য' রচনার লেখকের এই চেতনারই প্রতিফলন ঘটেছে। সে ক্লাস শিক্ষকের মুখে বাংলার রূপকথার গৌরবময় ইতিহাস জানতে পেরে পুলকিত হয়। দাদির কাছে এসব শুনতে চায়। এভাবে উদ্দীপকের মাহমুদের মাঝে 'পল্লিসাহিত্য' রচনার পল্লিসাহিত্যের প্রতি ভালোবাসার দিকটি ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের দাদির মতো রূপকথার গল্পগুলোর প্রতি আমাদের অন্যগ্রহই পল্লিসাহিত্য হারিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পল্লিসাহিত্য আমাদের অমূল্য সম্পদ। বাঙালির এই প্রাণের সম্পদ আজ অবহেলা-অনাদরে হারিয়ে যেতে বসেছে। এর গুরুত্ব অনুধাবন করে এগুলোর সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সবাইকে তৎপর হতে হবে।
উদ্দীপকে দাদির মনোভাবে পল্লিসাহিত্যের প্রতি অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে। তার নাতি মাহমুদ রূপকথা শুনতে চাইলে তিনি মনে না থাকার অজুহাতে এড়িয়ে যান এবং হিন্দি সিরিয়াল দেখার পরামর্শ দেন। এ দিকটি 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধেও আলোচনা করা হয়েছে। এখানে লেখক পল্লিসাহিত্য হারিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের উদাসীনতা ও অনাদরকে দায়ী করেছেন। উদ্দীপকের দাদির কর্মকান্ডে তা লক্ষ করা যায়।
'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে লেখক পল্লিসাহিত্য হারিয়ে যাওয়ার কারণগুলো তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে পল্লিসাহিত্যের কিছু অংশ এখনও আছে। সময়ের ও রুচির পরিবর্তনে সেটুকুও অনাদৃত হয়ে ধ্বংসের পথে এসে দাঁড়িয়েছে। উদ্দীপকের দাদির কর্মকান্ডে এ দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
