নিচের উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
একটি অণুতে মৌলের পরমাণুগুলো যেভাবে সাজানো থাকে প্রতীক এবং বন্ধনের মাধ্যমে তা প্রকাশ করাকে গাঠনিক সংকেত বলে।
জানা আছে, কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী ও সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলে। যৌগে সালফার (S) এর সক্রিয় যোজনী 6 এরং S এর সর্বোচ্চ যোজনীও 6।
সুতরাং, যৌগে সালফার (S) এর সুপ্ত যোজনী ।
উদ্দীপকের তথ্যমতে, A ও C মৌলদ্বয় যথাক্রমে H ও F এবং এদের দ্বারা গঠিত যৌগ HF HF অণুটি সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে সালফার গঠিত। নিচে এর গঠন ডট ( . ) ও ক্রস ( x ) চিহ্ন দ্বারা ব্যাখ্যা করা হলো-
হাইড্রোজেন (H) ও ফ্লোরিন (F) এর ইলেকট্রন বিন্যাস-
; বহিঃস্থ স্তরে ইলেকট্রন সংখ্যা 1।
; বহিঃস্থ স্তরে ইলেকট্রন সংখ্যা 7 ।
H এর বহিঃস্থ শেলে 1টি অযুগ্ম ইলেকট্রন রয়েছে। অপরদিকে F এর বহিঃস্থ শেলে 7টি ইলেকট্রন, যা নিষ্ক্রিয় ইলেকট্রনীয় কাঠামো অপেক্ষা 1 টি কম রয়েছে। এক্ষেত্রে H ও F উভয়েই 1টি করে শেয়ার করে নিষ্ক্রিয় চরিত্র অর্জন করে এবং সমযোজী যৌগ HF গঠন করে।
উদ্দীপকের A, B, C মৌল তিনটি যথাক্রমে H, Na ও F; কেননা মৌলগুলোর প্রোটন সংখ্যা যথাক্রমে। H ও F দ্বারা গঠিত যৌগ HF এবং Na ও F দ্বারা গঠিত যৌগ NaF। এরা একই কৌশলে পানিতে দ্রবীভূত হবে না। নিচে তা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
NaF এর পানিতে দ্রবণীয়তা : NaF আয়নিক যৌগ হওয়ায় এর মধ্যে এবং আয়ন বিদ্যমান। NaF কে পানিতে দিলে এটি পানির অণুর সাথে আকর্ষিত হয়। অর্থাৎ, NaF এর ধনাত্মক আয়ন পানির ঋণাত্মক মেরু দ্বারা এবং NaF এর ঋণাত্মক আয়ন পানির ধনাত্মক মেরু দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের সাথে পানি অণুর সংযোগের সময় নির্গত শক্তিকে হাইড্রেশন শক্তি বলে। এ নির্গত তাপশক্তির প্রভাবে NaF এর কেলাস ল্যাটিস থেকে আয়নগুলো পৃথক হয়ে পানিতে দ্রবীভূত হয়।
HF যৌগের পানিতে দ্রবণীয়তা: সমযোজী যৌগ HF এর ক্ষেত্রে H ও F এর তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্য (4 – 2.1) = 1.9। যেহেতু HF অণুতে পরমাণুসমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান 0.5 অপেক্ষা বেশি, সেহেতু HF পোলার অণু। অপরদিকে হলো একটি পোলার দ্রাবক। জানা আছে, পোলার অণুসমূহ পোলার দ্রাবকে দ্রবীভূত হয়। এ কারণে HF সমযোজী যৌগ হওয়া সত্ত্বেও পোলার দ্রাবক পানিতে দ্রবীভূত হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, NaF ও HF যৌগ দুটির বন্ধন গঠন পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উভয় যৌগই একই কৌশলে পানিতে দ্রবীভূত হবে।
