| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১. নিচের চিত্র…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

১. নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
ত্রিস্তরী প্রাণির ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের সময় যে দেহগহ্বর সৃষ্টি হয় তাকে সিলোম বলা হয়।
পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের জিনগত, প্রজাতিগত ও পরিবেশগত কারণে যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় সামগ্রিকভাবে তাকে জীববৈচিত্র্য বলে। জীব বলতে অণুজীব, ছত্রাক, উদ্ভিদ ও প্রাণীকে বুঝায়। এরা একটি থেকে অপরটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং পৃথকযোগ্য। কাজেই জীববৈচিত্র্যকে সাধারণত তিনটি পর্যায়ে আলোচনা করা যায়। যথা: জিনগত বৈচিত্র্য, প্রজাতিগত বৈচিত্র্য এবং ইকোসিস্টেমগত বৈচিত্র্য। এ তিন প্রকার বৈচিত্র্য মিলিতভাবে সৃষ্টি করে জীববৈচিত্র্য।
উদ্দীপকের “P” প্রাণীটি হলো তারামাছ। তারামাছকে মাছ নামে জানলেও এটি প্রকৃতপক্ষে মাছ নয়। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মাছ মেরুদণ্ডী প্রাণী হলেও তারামাছ অমেরূদণ্ডী।
২. মাছ কঠিন অস্থিনির্মিত অন্তঃকঙকালবিশিষ্ট প্রাণী। কিন্তু তারামাছ বহিঃকঙ্কালযুক্ত।
৩. মাছের দেহ সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আইশ দ্বারা আবৃত থাকে। কিন্তু তারামাছের দেহে এ ধরনের কোনো আঁইশ থাকে না । এদের ত্বক থাকে কন্টকময় ৷
৪. মাছের শ্বসন অঙ্গে চার জোড়া ফুলকা থাকলেও তারামাছের তা নেই। তারামাছের শ্বসন ও চলনক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পানি সংবহনতন্ত্র থাকে৷
৫. মাছের বায়ুথলি বা পটকা নামক বিশেষ শ্বসন অঙ্গ থাকে. যা মাছকে ভেসে থাকতে সহায়তা করে। তারামাছের এ ধরনের কোনো শ্বসন অঙ্গ থাকে না।
৬. মাছের দেহ লম্বা অস্থিময় পাখনারশ্মি যুক্ত এবং পুচ্ছ-পাখনা হোমোসার্কাল ধরনের ৷ তারামাছের এ ধরনের কোনো পাখনা থাকে না।
উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, তারামাছের বৈশিষ্ট মাছের বৈশিষ্টা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ৷ এ কারণে তারামাছ প্রকৃতপক্ষে মাছ নয়।
উদ্দীপকের 'Q'প্রাণীটি হলো রুই মাছ। রুই মাছ বাংলাদেশের অতি পরিচিত, সুস্বাদু এবং জনপ্রিয় মাছ। এক সময় আমাদের দেশের প্রাকৃতিক জলাশয়সহ পুকুর, দীঘিতে প্রচুর রুই মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর তা পাওয়া যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমির প্রসার, জলাভূমি কেটে ভরাট, বাধ নির্মাণ, যত্রতত্র কীটনাশক ওষুধের ব্যবহার, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ আহরণ ইত্যাদি নানাবিধ কারণে কারণে বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিবেশের রুই মাছ খুব একটা পাওয়া যায় না। হ্যাচারিতে কৃত্রিমভাবে রুই মাছ উৎপাদন করা হলেও তা প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন নয়। হ্যাচারিতে সীমিত ও নির্দিষ্ট মাছের মধ্যে আন্তঃপ্রজনন ঘটানোর ফলে রুই মাছের ভালো গুণাবলি হারিয়ে যাচ্ছে। জিনগত বৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে, রোগাক্রান্ত মাছের আধিক্য দেখা দিচ্ছে এবং স্বাদবিহীন মাছের প্রাচুর্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে । হ্যাচারির মাছ কখনোই প্রাকৃতিক মাছের প্রতিনিধিত্ব করে না। এ অবস্থায় মাছের প্রাকৃতিক গুণাবলি, জিনগত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে রুই মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পরিবেশগত, প্রজাতিগত ও জিনগত বৈচিত্র্যের দিকে লক্ষ রেখে মাছের প্রজাতি বৈচিত্র্য রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে ।
উপরের আলোচনার আলোকে সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, চিত্রের 'Q' প্রাণীটি অর্থাৎ রুই মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরী ৷ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রুই মাছ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে।