| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১০ মার্চ, ১৯৭১।…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – রেইনকোট, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

১০ মার্চ, ১৯৭১। রাস্তায় রাস্তায় পাকিস্তানি মিলিটারি। গুয়াতলী গ্রামের হিন্দু জনগোষ্ঠী ভয়ে
ভারতে পাড়ি জমায়। শুধু ভিটে আঁকড়ে পড়ে থাকে কেষ্ট বাবু। পাশের গ্রামে ছিল পাকিস্তানি
হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প। স্থানীয় রাজাকার কাশেম মোড়ল কেষ্টবাবুকে সন্দেহের চোখে দেখে।
সে মনে করে কেষ্টবাবু মুক্তিবাহিনীর লোক। এক বৃষ্টিমুখর দিনে গুয়াতলী গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ
করে এবং কাশেম মোড়লের ইশরায় হানাদার বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাস্তার পাশে
জীবন্ত পুঁতে রেখে চলে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৭
রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রচণ্ড শীত রুশ বাহিনীর জন্য যেমন কল্যাণ বয়ে এনেছিল তেমনই বর্ষা মৌসুম মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সুফল বয়ে আনে— এ কথাটি বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার বাহিনী প্রচণ্ড শীতের কারণে রুশ বাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রবল বর্ষায় তেমনই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। উক্তিটির মাধ্যমে সেই বিষয়টির কথাই বলা হয়েছে। কুলির ছদ্মবেশে কলেজে আলমারি দিতে এসে এক গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বলেছিলেন, 'বর্ষাকালেই তো জুৎ।' কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদার মনে হয়, এ কথার মধ্য দিয়ে ছেলেটি যেন আলোচ্য কথাটিই বলতে চেয়েছে।
উদ্দীপকের কেষ্ট বাবু 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
রেইনকোট গল্পের কথক নুরুল হুদা ভীতু প্রকৃতির মানুষ।তিনি কোন ঝামেলায় পড়তে চান না।তাই মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক এর কথা জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে বারবার বাসা পরিবর্তন করেন।এত কিছুর পরেও তাকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী সন্দেহে পাকিস্তানি বাহিনী নির্যাতন করে।
উদ্দীপকের কেষ্ট বাবুকে মুক্তিবাহিনীর লোক সন্দেহে স্থানীয় রাজাকার কাশেম মোড়ল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে তাকে ধরিয়ে দেয়। তারা কেষ্ট বাবুকে ধরে নিয়ে রাস্তার পাশে জীবন্ত পুঁতে রাখে। উদ্দীপকের এই কেষ্ট বাবু চরিত্রটি 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা চরিত্রকে নির্দেশ করে। এ গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে সন্দেহে কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়। ক্ষতবিক্ষত হয়েও নুরুল হুদা নীরব থাকেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ অত্যাচার উদ্দীপকের কেষ্ট বাবুর ওপর নির্মমতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এভাবে উদ্দীপকের কেষ্ট বাবু 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
কেবল পাকিস্তানি সেনাদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিষয়টি উঠে আসায় উদ্দীপকটি রেইনকোট গল্পের খণ্ডচিত্রের ধারক হয়ে উঠেছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। তাদের হাত থেকে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধ কেউই রক্ষা পায়নি। তাদের এই ঘৃণ্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিবরণ রয়েছে। গ্রামের হিন্দু জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগ ও তাদের উপর হত্যাকাণ্ডে বিবরন আমরা দেখতে পাই।কেবল সন্দেহের বশে তারা নিরাপদ কেষ্ট বাবুকে নির্মমভাবে হত্যা করে, তার চিত্রও আমরা উদ্দীপকে দেখতে পাই।
রেইনকোট' গল্পে যুদ্ধবিধ্বস্ত ঢাকা শহরের চিত্র ফুটে উঠেছে।মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে গেরিলা আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভীতু প্রকৃতির মানুষের সাহসী হয়ে ওঠার ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ ঘটেছে আলোচ্য গল্পে। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে গল্পের অন্যান্য দিকের প্রতিফলন ঘটেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উঠে আসার দিকটি রেইনকোট গল্পের সসমগ্রভাবকে ধারণ করতে পারেনি, আংশিক ভাবকে ধারণ করেছে।