[এখানে, L, M, N, K প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]
ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণের ফলে কোনো মৌলে উৎপন্ন ধনাত্মক বা ঋণাত্মক আধান সংখ্যাকে ঐ মৌলের জারণ সংখ্যা বলে।
অ্যারোমেটিক যৌগসমূহ সাধারণত 5, 6 বা 7 সদস্যের সমতলীয় চাক্রিক যৌগ। এতে একান্তর দ্বিবন্ধন থাকে অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে কার্বন-কার্বন একটি একক এবং একটি দ্বিবন্ধন থাকে। (বেনজিন) এ তিনটি একান্তর দ্বিবন্ধন থাকে যা চক্রাকারে আবর্তিত হতে পারে। তাই বেনজিন () একটি অ্যারোমেটিক যৌগ।
উদ্দীপকের K মৌলটি হলো ক্লোরিন (Cl), কারণ C1 পর্যায় সারণির 3 নং পর্যায়ের ও গ্রুপ-17 এর মৌল। CI মৌলটির দ্বিপরমাণুক অণু গঠনে রাসায়নিক বন্ধন নিচে চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
Cl এর ইলেকট্রন বিন্যাস,
ইলেকট্রন বিন্যাস হতে দেখা যায়, CI এর শেষ কক্ষপথে টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। ফলে অষ্টক পূরণের জন্য ক্লোরিনের একটি ইলেকট্রন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দুটি ক্লোরিন (CI) পরমাণু পরস্পর একটি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় গ্যাস এর ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে এবং অণু গঠন করে।
উদ্দীপকের ও মৌলগুলো যথাক্রমে , ও । ও হলো তৃতীয় পর্যায়ের মৌল এবং হলো ৪র্থ পর্যায়ের মৌল। নিম্নে মৌলগুলোর আয়নীকরণ শক্তির ক্রম বিশ্লেষণ করা হলো-
আমরা জানি, একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানদিকের দিকে অগ্রসর হলে আয়নীকরণ শক্তির মান বৃদ্ধি পায়। কারণ একই পর্যায়ের বাম হতে ডান দিকে অগ্রসর হলে কেন্দ্রে ধনাত্মক চার্জ ও বহিঃস্তরে ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পায় কিন্তু শক্তি স্তর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না। ফলে বহিঃস্থ ইলেকট্রনের উপরে কেন্দ্রের ধনাত্মক চার্জের আকর্ষণ বৃদ্ধির ফলে মৌলের আকার হ্রাস পায় এবং একই কারণে আয়নীকরণ শক্তিও বৃদ্ধি পায়।
এখানে, সিলিকন, সালফার ও ক্লোরিনের অবস্থান একই পর্যায়ে এবং সিলিকনের ডানে সালফার ও সালফারের ডানে ক্লোরিনের অবস্থান। সুতরাং মৌলসমূহের আকারের ক্রম হবে CI <S <Si । কিন্তু মৌলসমূ হের আকার যত ছোট হবে আয়নীকরণ শক্তি তত বেশি হবে। অর্থাৎ আয়নীকরণ শক্তির ক্রম হবে Si < S < Cl
আবার, একটি গ্রুপে যত উপর থেকে নিচে যাওয়া যায় তত আয়নীকরণ শক্তির মান হ্রাস পায়। কারণ, একই গ্রুপে উপর থেকে নিচের দিকে অগ্রসর হলে পরমাণুতে নতুন শক্তিস্তর যুক্ত হয় ফলে মৌলের পারমাণবিক আকার বৃদ্ধি পায়। ফলে নিউক্লিয়াস হতে বহিঃস্থ ইলেকট্রনের দূরত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় তার উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বল হ্রাস পায়। ফলে বহিঃস্থ ইলেকট্রন সরিয়ে নেওয়া সহজ হয়। অর্থাৎ আয়নীকরণ শক্তির মান হ্রাস পায়।
সুতরাং এর অবস্থান ৪র্থ পর্যায়ে হওয়ায় এর আকার ক্লোরিন, সালফার ও সিলিকনের আকারের চেয়ে বড় হবে। ফলে এর আয়নীকরণ শক্তির মান সিলিকন, সালফার ও ক্লোরিনের অপেক্ষা কম হবে। অতএব, আয়নীকরণ শক্তির ক্রম হবে Ca < Si <S < Cl.
