| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে রংপুর-দিনাজপুর…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সাহসী কৃষকনেতা নূরলদীনের সংগ্রামের কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নূরলদীনের সাহস আর ক্ষোভকে মুক্তিপাগল বাঙালি জাতি আজও ভোলেনি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
"ভগবানের দিব্যি কর্নেল সাহেব, তোমরা বড়ো বেহায়া।"- - উক্তিটি জগৎশেঠের।
"পাবলিকের মনে টেরর জাগিয়ে রাখতে পারাটাই শাসন ক্ষমতার গ্রানাইট ফাউন্ডেশন।"- সংলাপটি মধ্য দিয়ে নাট্যকার বোঝাতে চেয়েছেন যে, অবৈধ বা স্বৈরশাসনের মূল ভিত্তিই হলো ভয় বা ত্রাস।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর নবাব হিসেবে মিরজাফরের অভিষেক অনুষ্ঠানে রবার্ট ক্লাইভ সিরাজউদ্দৌলাকে সর্বসমক্ষে শেকল বাঁধা অবস্থায় জাফরগঞ্জের কয়েদখানায় নিয়ে আসার কথা বলেন। কেননা নবাবের এহেন দুরববস্থা দেখে জনসাধারণের মনে নতুন নবাবকে নিয়ে ভয়ের সঞ্চার হবে। ফলে তারা প্রতিবাদী হতে ভয় পাবে। তার মতে, জনমনে ভয় জিইয়ে রাখাই হলো শাসন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মূল ভিত্তি। প্রশ্নোক্ত সংলাপটির মাধ্যমে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মমত্ববোধের দিক থেকে উদ্দীপকের নূরলদীনের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার চেতনাগত সাদৃশ্য বিদ্যমান।
দেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ। মানবিক বোধসম্পন্ন যেকোনো মানুষই নিজের দেশকে জীবন দিয়ে ভালোবাসে। প্রকৃত দেশপ্রেমিকের কাছে দেশমাতৃকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য কিছুই হতে পারে না। আর তাই দেশ ও জাতির প্রয়োজনে তারা নিজেদের জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হন না।
উদ্দীপকের ১৭৮৩ সালে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কৃষকনেতা নূরলদীনের কথা বলা হয়েছে।অত্যাচারী জমিদার ও ব্রিটিশদের হাত থেকে নিজ এলাকার মানুষকে মুক্ত করতে তিনি কৃষকদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। একইভাবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলাও দেশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে বিদেশি ইংরেজ বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হন। এক্ষেত্রে দেশ ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তাদের এমন অবস্থানের কারণ। এভাবে তাদের মধ্যে চেতনাগত সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
"নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেখানো পথই নূরলদীনের সংগ্রামের পথ।"- 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি যথাযথ।
বাঙালি জাতির ইতিহাস হাজার বছরের পুরানো। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এই জাতি নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের দিনে উপনীত হয়েছে। এক্ষেত্রে গভীর দেশাত্মবোধ ও অনাদি অতীতের সংগ্রামী চেতনাই ছিল তাদের এগিয়ে চলার মূল প্রেরণা।'
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে' নবাব তাঁর অমাত্যবর্গ, নিকট-আত্মীয় ও প্রধান সেনাপতির ষড়যন্ত্রের শিকার হন। তাদের বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বন্দি হন। পরে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর আগে তিনি ইংরেজদের প্রতিহত করতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। উদ্দীপকে এক ঐতিহাসিক সংগ্রামী চরিত্র নূরলদীনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়েছে। অত্যাচারী জমিদার ও সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের হাত থেকে নিজ এলাকার মানুষদের রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। সংগত কারণেই তাঁর এই সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার কথা দেশবাসী আজও ভোলেনি। শুধু তাই নয়, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তাঁর এই সংগ্রাম আজও দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বাংলার স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বীরোচিত ভূমিকাকে তুলে ধরা হয়েছে। তা সত্ত্বেও নিজের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও সভাসদদের ষড়যন্ত্র ও অসহযোগিতার কারণে পলাশির যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন। তবে তাঁর অনন্য দেশপ্রেম ও বীরত্বের জন্য বাঙালি জাতির মনে তিনি আজও অম্লান। একইভাবে উদ্দীপকের সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কৃষকনেতা নূরলদীনও নবাব সিরাজউদ্দৌলার মতো দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হয়েই বেনিয়া ইংরেজদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়ান। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।