| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১৯৪৬ সালে লর্ড…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৬ – ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

১৯৪৬ সালে লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন ভাইসরয় হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে তৎকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা শুরু করেন।
এরই প্রেক্ষিতে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে ভারতবর্ষে আসেন।
উদ্দীপকে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যার বেশকিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালের ৩ জুনের মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাকে বাস্তবরূপ দেওয়ার জন্য একই বছর ১৮ জুলাই যে আইন পাস হয় তা ভারত স্বাধীনতা আইন নামে পরিচিত। এ আইনের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ আইনের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো-১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন উক্ত সালের ১৪ আগস্ট থেকে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটায় এবং ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে 'পাকিস্তান' এবং 'ভারত ইউনিয়ন' নামক দুটি নতুন ডোমিনিয়ন সৃষ্টি করে। আইনটিতে ডোমিনিয়ন দুটির স্বাধীনতা ও আইনগত সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা হয়। দুটি ডোমিনিয়নের জন্য দুটি পৃথক গণপরিষদ গঠন করে। ১৯৪৭সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলোর ওপর ব্রিটিশ রাজ্যের সার্বভৌম ক্ষমতার অবসান ঘটে। দেশীয় রাজ্যগুলো তাদের ইচ্ছামতো পাকিস্তান বা ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদান করতে পারবে অথবা ইচ্ছা করলে স্বাধীন থাকতে পারবে। এ আইন ভারত সচিব পদের বিলুপ্তি ঘটায়। এআইন পাসের ফলে রাজকীয় মর্যাদা ও উপাধি হতে ব্রিটিশরাজের। 'ভারত সম্রাট' উপাধি বিলুপ্ত হয়। এ আইন অনুসারে পাকিস্তান ও ভারত উভয় ডোমিনিয়নের শাসনতন্ত্র রচিত না হওয়া পর্যন্ত এদের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রদবদলসহ ১৯৩৫ সালের 'ভারত শাসন আইন' কার্যকর থাকবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ৩ জুন মাউন্ট ব্যাটেন পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রণীত আইনটি ছিল উপমহাদেশের দৃশ্যপট পরিবর্তনকারী আইন। উদ্দীপকের এসব তথ্য ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনকে নির্দেশ করে। কারণ ১৯৪৭ সালের ৪ জুলাই মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কার্যকর করার লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপিত হয়। এতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এটিই ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন নামে পরিচিত।
উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশিত আইন তথা ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য অপরিসীম।
উদ্দীপকে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের কথা বলা হয়েছে। এ আইনের মাধ্যমেই ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্মের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ জনগণের বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান হয়। দীর্ঘ আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, ব্যঅপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পর ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন করা হয়। এজন্য এ আইন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দলিল।
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হয়। এর মাধ্যমে ভারতবর্ষে দুইশত বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এ আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে। ফলে পাকিস্তান ও ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দূরীভূত হয়। ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতি ও বিবর্তনের ক্ষেত্রে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। উক্ত আইন প্রণয়নের ফলে এ উপমহাদেশে দীর্ঘ ১৯০ বছর পরে স্বাধীন দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের কৃষ্টি, সভ্যতা, সাহিত্য ইত্যাদিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। নতুন প্রেরণা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দুটি স্বাধীন দেশের জনগণ নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।