| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১৯৪৭ সালে ভারতীয়…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ ধর্মের ভিত্তিতে দুটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এর মধ্যে একটি রাষ্ট্রে প্রায় ৯ বছর পর সংবিধান রচিত হয়। কিন্তু এই সংবিধানটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রধানতম উপায় হলো সংবিধান তথা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা। কেননা, কোনোভাবে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও সংবিধানে বলবৎকৃত আইনের দ্বারা সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়ে সুবিচার লাভ করতে পারবেন। সর্বোপরি; আইনের যথাযথ প্রয়োগ, শাসন বিভাগের স্বেচ্ছচারিতা রোধ, সুশাসন ও স্বচ্ছতা, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রভৃতি উপায়ে মৌলিক অধিকার রক্ষা করা যায়।
উদ্দীপকে আলোচিত সংবিধানটি হলো ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধান। পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর প্রণীত এ সংবিধান বহুবিধ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল।
১৯৫৬ সালের সংবিধানে পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মুসলমান ছাড়া কেউ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। এ সংবিধান ছিল পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম সংবিধান। এতে মোট ১০৫ পৃষ্ঠা, একটি প্রস্তাবনা, ১৩টি অংশ ২৩৪টি বিধি ও ৬টি তালিকা ছিল। এ সংবিধানে ইসলামের ইসলামিক বিধিবিধানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি গণতন্ত্র, সাম্য-সহনশীলতা; সামাজিক সুবিচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইসলামি বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়। এ সংবিধানে রাষ্ট্রীয় শাসন পদ্ধতি হিসেবে গণতন্ত্রকে উল্লেখ করা হয়। এটি একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান। এতে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং কেন্দ্র ও প্রদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এ সংবিধানে পাকিস্তানের এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার ব্যবস্থা রাখা হয়। এ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের উল্লেখ, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রদানের কথা উল্লেখ রাখা হয়। এছাড়া এ সংবিধানেই বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালের এ সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণের উল্লেখ করা হয়।
পাকিস্তান সৃষ্টির সুদীর্ঘ ৯ বছর পর রচিত ১৯৫৬ সালের সংবিধান ব্যর্থ হয়েছিল। এ ব্যর্থতার নানাবিধ কারণ রয়েছে।
১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের সংবিধান ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ ছিল এর কাঠামোগত ও রাজনৈতিক দুর্বলতা। এটি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রীতি আনতে ব্যর্থ হয় এবং এটি ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় অসম্পূর্ণ ছিল। সংবিধানটি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল, যা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে উপেক্ষা করেছিল। সংবিধানে যদিও উল্লেখ ছিল, প্রাদেশিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করবে কিন্তু বাস্তবে ছিল ভিন্ন অবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকার সকল ক্ষেত্রেই প্রাদেশিক সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করত। এছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংবিধানে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। এছাড়াও তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা এ সংবিধানটির ব্যর্থতার জন্য অনেকাংশে দায়ী। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান তীব্র অসন্তোষ এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এর মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা লোভ এ সংবিধান ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। মোটকথা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল নেতৃত্ব এবং সামরিক ও আমলাতন্ত্রের প্রভাব সংবিধানের ব্যর্থতায় বড় ভূমিকা রেখেছিল। ফলে এ সংবিধান কার্যকরের মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়।