| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১৯৫২ সালের ভাষা…’ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ ২০২৬ – দেশপ্রেম ও জাতীয়তা, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সুষ্ঠু ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাই হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এই জাতীয়তাবাদী চেতনাই ছিল এ দেশের সকল আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রেরণা শক্তি। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তার মূলে ছিল জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং দেশের মানুষের দেশপ্রেম। দেশকে স্বাধীন, সার্বভৌম ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রয়োজন দেশপ্রেম।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
Natio এবং Natus শব্দের অর্থ হলো জন্ম বা বংশ বা রক্তের সম্পর্ক।
দেশপ্রেম হচ্ছে দেশের উন্নয়নে, দেশরক্ষায় এবং দেশের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকার সদিচ্ছা এককথায় মাতৃভূমির প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসাই হচ্ছে দেশপ্রেম। দেশপ্রেম পবিত্র এবং দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ ও গৌরবের। কিন্তু উগ্র ও অন্ধ দেশপ্রেম কল্যাণের পরিবতে ধ্বংসের পথ রচনা করে।
জাতি গঠনে ভাষার গুরুত্ব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলোচনা কর।
উদ্দীপকের উক্ত বিষয়টি তথা জাতীয়তার সাথে দেশপ্রেমের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
দেশপ্রেম ও জাতীয়তা একই সূত্রে গাঁথা। মাতৃভূমির প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসাই হচ্ছে দেশপ্রেম। এটি নাগরিকের এক পবিত্র অনুভূতি। জন্মসূত্রেই জন্মভূমির প্রতি মানুষের নাড়ির সংযোগ গড়ে ওঠে। নিজের দেশ থেকে বড় আর কিছুই নেই। তাই স্বীয় দেশের জন্য জীবন দিতে নাগরিক কখনো পিছপা হয় না। এভাবেই দেশপ্রেম মানুষের মাঝে ঐক্য সৃষ্টি করে জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়। মূলত দেশপ্রেমের মাধ্যমেই নাগরিকদের মাঝে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত হয়। যেমন- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে মানুষের মাঝে জন্ম নেওয়া জাতীয়তাবাদী চেতনার কথা উল্লেখ করা যায়। যা বাঙালি জাতিকে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে। এ জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে বাঙালিদের মাঝে যে ঐক্যবদ্ধ মনোভাব গড়ে ওঠে তা দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে। যার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী সকল আন্দোলনে বাঙালি স্বীয় দেশের স্বার্থকে এগিয়ে রেখে একতাবদ্ধ হয়। আর এরই ধারাবাহিকতায় অর্জিত হয় বাংলার স্বাধীনতার সোনালি সূর্য। দেশপ্রেম আর জাতীয়তাবাদী চেতনায় নিরস্ত্র বাঙালি জাতির কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনী। এ থেকে বোঝা যায়, দেশপ্রেম ও জাতীয়তার মাঝে সুগভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।