| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১৯৭১ সালের ৭ই…’ যশোর বোর্ড ২০২২ – আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেন বাঙালি জাতিকে মুক্তির কবিতা শোনালেন। বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শোষণ-বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাঙলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।” তিনি এক পর্যায়ে বাঙালি জাতিকে প্রতিবাদী আর সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইন্শা-আল্লাহ্।” প্রধানত, বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৩
ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়।
বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচারের ইতিহাস ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে বলেছেন। শত্রুরা আমাদের পূর্বপুরুষের ওপর যে অত্যাচার ও নির্যাতন করেছিল তা এখনো তাজা রয়েছে বোঝাতেই রক্তজবার প্রসঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে। পরাধীনতার কারণে পূর্বপুরুষদের ওপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। বিদেশি শত্রুরা আমাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করেছে। পূর্বপুরুষদের পরাধীনতা ও তাদের সেই অত্যাচারের মাত্রা বোঝাতেই আলোচ্য চরণটির অবতারণা করা হয়েছে ।
উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার ঐতিহ্য সচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের মুক্তির সুদৃঢ় ঘোষণা। কবি তাঁর কবিতায় পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস টেনে এনেছেন ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ যেন বাঙালি জাতির মুক্তির কবিতা । এই ভাষণে তিনি বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শোষণ, বঞ্চনার কথা তুলে ধরে বাঙালি জাতিকে প্রতিবাদী আর সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান জানান। রক্তের বিনিময়ে হলেও এদেশের মানুষকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আলোচ্য কবিতাটিতেও বাংলার মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিসংগ্রামের ডাক আলোচ্য কবিতার ঐতিহ্য সচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা যা আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ।
আলোচ্য কবিতায় হাজার বছরের সমগ্র বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাস, যুদ্ধ করে টিকে থাকা ও বিজয় লাভের গাথা উচ্চারিত হয়েছে। কবিতায় বারবার এসেছে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষায় সোচ্চার হওয়ার কথা। এখানে ‘কবিতা' শব্দটিকে ও সত্যকে অভেদরূপে কল্পনা করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে যেন মুক্তির কবিতা শুনিয়েছেন। বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শোষণ-বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বাঙালি জাতিকে প্রতিবাদী আর সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান জানান । রক্তের বিনিময়ে হলেও বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আশ্রয় করে মানবমুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু মুক্তির পূর্বশর্ত হলো সংগ্রাম। আর গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসন এবং অত্যাচারে এদেশবাসী হাঁপিয়ে উঠেছিল । আর তখন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণেই সূচিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান। তাই বলা যায়, ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা ।