| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১৯৭১ সালের মহান…’ ঢাকা সিটি কলেজ ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাঙামাটির ‘বুড়িঘাট’ যুদ্ধে শত্রুপক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পের কাছাকাছি চলে আসে। সহযোদ্ধাদের অপ্রস্তুতির বিষয়টি টের পেয়ে মুন্সী আব্দুর রউফ মেশিনগানের গুলি চালিয়ে পাকিস্তানি । সৈন্যর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে সহযোদ্ধারা প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে J | শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার প্রাক্কালে সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে শহিদ হন . বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ। পরাস্ত হয় শত্রুপক্ষ ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পারফেক্ট স্কাউন্ড্রেল' বলা হয়েছে উমিচাঁদকে ।
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে ।
ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে রাজ অমাত্যগণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার কর্তৃত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করবেন বলে পবিত্র গ্রন্থ নিয়ে শপথ করেছিলেন । কিন্তু নবাবকে পরাজিত করতে গোপনে অনেকেই ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইংরেজদের সাথে, যা তাদের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে। অমাত্যবর্গের এই বিশ্বাসঘাতকতার দিকটিই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে ।
সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের প্রতি মিরমর্দান ও মোহনলালের বিশ্বস্ততার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে উদ্দীপকে ।
সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যাঁরা কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করেন না। নিজের সমূহ বিপদের কথা জেনেও স্বদেশ ও স্বগোত্রীয় মানুষদের সাথে বিশ্বাসঘাকতা করেন না। ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরমদান ও মোহনলাল তেমনি নিষ্ঠাবান চরিত্রের প্রতীক। সবাই নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও তাঁরা করেননি। নিজেদের জীবনের বিনিময়ে তাঁরা নবাবের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন।
উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির ন্যায়-নিষ্ঠার কাছে জোহরার স্বার্থপর দৃষ্টিভঙ্গির পরাজয় ঘটেছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ইব্রাহিম কার্দি মুসলিম-মারাঠা যুদ্ধে মুসলমান হয়েও মারাঠাদের পক্ষে যুদ্ধ করেন। মারাঠাদের পরাজয় অনুমান করে তাঁর স্ত্রী জোহরা তাঁকে মুসলিম শিবিরে ফিরে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু ইব্রাহিম কার্দি তাঁর নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তিনি মারাঠাদের পক্ষে লড়ে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। ‘সিরাজউদ্দৌলা’” নাটকেও আমরা একই রকম চিত্র দেখতে পাই। সেখানে পলাশির যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে নবাবের নিশ্চিত পরাজয়ের কথা জেনেও মিরমদান এবং মোহনলাল প্রাণপণে যুদ্ধ করে গেছেন । বিশ্বস্ততার এমন দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল ।
উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দি বিশ্বস্ত সৈনিকের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যার অভাব ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রকট হয়ে দেখা দেয় ।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পরাজিত হয়েছিলেন । ইংরেজদের বিরুদ্ধে তাঁর বিরাট সৈন্যের বহর থাকলেও তাদের মধ্যে বিশ্বস্ত সৈনিকের অভাব ছিল। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের অংশ হয়ে অপ্রতুল ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধেও তারা নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকে। এতে কয়েকজন সেনা প্রাণপণে লড়াই করলেও তা নবাবের পরাজয় ঠেকাতে পারে না ।
উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দি একজন বীর সৈনিক। মুসলিম-মারাঠা যুদ্ধে তিনি মুসলিম হয়েও মারাঠাদের পক্ষে যুদ্ধ করেছেন নীতিবোধের কারণে। স্ত্রী জোহরা তাঁকে মুসলিম শিবিরে ফিরে আসতে অনুরোধ জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। কার্দি বলেন, যারা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে, কর্মে নিযুক্ত করেছে সেই মারাঠাদের বিপদের দিনে তিনি তাদের ছেড়ে যেতে চান না ।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে কয়েকজন সৈন্য নবাবের আস্থার প্রতিদান দেন । নবাবের আস্থাভাজন সেনাপতি মিরমর্দান, মোহনলাল, নৌবে সিং, হাজারি প্রমুখ ব্যক্তি দেশমাতৃকার স্বাধীনতা রক্ষার্থে ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। উদ্দীপকের ইব্রাহিম কার্দির মতো বিশ্বস্ত সৈনিকের অভাব ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রকট। পলাশির যুদ্ধে যদি নবাবের পক্ষে তাঁর মতো বিশ্বস্ত আরো সৈন্য থাকত, তাহলে হয়তো সিরাজের এমন মর্মান্তিক পরিণতি হতো না। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের কার্দির মতো বিশ্বস্ত লোকের অপ্রতুলতার জন্যই সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।