| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১৯৭১ সালের মহান…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের কিছু মানুষ বিরোধিতা করেছে। অনেকে স্বার্থসিদ্ধির জন্যে গোপনে পাক সেনাদের সাথে হাত মিলিয়ে বাঙালি নিধনে তৎপর হয়ে উঠেছে। তেমনি দেশবিরোধী একজন ব্যক্তি আবুল মিয়া। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে আঁতাত করে সে তার নিজের এলাকার অনেক ক্ষতিসাধন করেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্যসংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের বেশি ছিল।
নিরীহ লবণ চাষিকে ইংরেজরা নির্মম নিপীড়ন করায় নবাব ক্ষোভে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন- "আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে।"
নবাব সিরাজউদ্দৌলা মিরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠের পরামর্শে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে লবণের ইজারাদারি দিয়েছিলেন দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড মজবুত করার জন্য। তিনি মনে করেছিলেন এতে রাজস্ব বাড়বে এবং দেশের উন্নতি হবে। কিন্তু কোম্পানি বাণিজ্য করার নামে নিরীহ প্রজাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। তারা কম দামে পাইকারি দরে লবণ কিনে স্থানীয় লোকদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে। কেউ লবণ বিক্রি না করলে ইংরেজরা তার ওপর অত্যাচার করে। ফলে নবাব তাঁর সিদ্ধান্তকে ভুল অনুধাবন করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকের আবুল মিয়া 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
দেশে নানা সময় বহির্দেশের আঘাত আসে। এ সময় যারা যুদ্ধ করে দেশমাতৃকাকে রক্ষায় তৎপর হন তাঁরা হলেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। কিন্তু এমন কিছু মানুষ থাকে যারা দেশের সংকটাবস্থায় দেশের পাশে না দাঁড়িয়ে শত্রুপক্ষের সাথে হাত মিলায়। এরা দেশের ও জাতির চিরশত্রু।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের এমনই এক চরিত্র হলো মিরজাফর। সিরাজ যখন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করতে চান তখন তাদের সাথে হাত মিলায় নবাবের সেনাপতি মিরজাফর। তিনি ছিলেন সেনাপতি। তিনি পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে ওয়াদা করলেও শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করেননি। বরং যুদ্ধের সময় তার নির্দেশে সেনারা ইংরেজদের উপর হামলা করা থেকে বিরত থাকে। উদ্দীপকের আবুল মিয়াও এমনই এক চরিত্র। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় সে পাকিস্তানিদের সাথে হাত মিলিয়ে নিজ এলাকার ক্ষতিসাধন করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আবুল মিয়া 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফর চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
"উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
যারা দেশকে ভালোবেসে নিজের পুরো জীবন ব্যয় করে তাদেরকেই দেখা যায় নিজ দেশের মানুষ দ্বারা নির্মমতার বলি হতে। ইতিহাসে এমন প্রমাণ ও ঘটনা অহরহ আছে। একজন দেশপ্রেমিকের সঙ্গে হওয়া এমন ঘটনা আমাদের মর্মে পীড়া দেয়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক এমনই এক আখ্যান যেখানে একজন অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সিরাজের করুণ পরিণতির কাহিনি লিপিবদ্ধ হয়েছে। সিরাজ ছিলেন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব। তাঁর নবাবি খালা ঘসেটি বেগম মেনে নিতে পারেন না। তিনি খালার অসূয়াবৃত্তির কবলে পড়েন। এছাড়া রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য তাঁর সভাসদেরাও তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। যার পরিণতি হিসেবে দেশ হয়ে যায় পরাধীন ও নবাবের হয় করুণ মৃত্যু।
উদ্দীপকের উল্লেখ্য অংশে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ ও দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেখানে আলোচ্য নাটকের যে মূল বিষয় নবাবের করুণ পরিণতি ও দেশের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যাওয়া সেই ব্যাপারে কোনো আলোকপাত করা হয়নি। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।