| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ…’ বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ করে শুরু হয়েছে- এমনটা ভাবা যুক্তিযুক্ত নয়। বস্তুত কোনো মুক্তিসংগ্রামই হঠাৎ করে শুরু হয় না। তার পেছনে একটা দীর্ঘ প্রস্তুতি থাকে, থাকে ইতিহাসের অনিবার্য ধারাবাহিকতা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সোপান ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির স্বাজাত্যবোধ ও মুক্তিচেতনা সুসংবদ্ধ হয়ে ওঠে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২০
'কৃষ্ণচূড়া' আমাদের চেতনার প্রতীক।
• বিপরীত চেতনা বলতে করি পাকিস্তানি শাসকদের হীন শাসনকে বুঝিয়েছেন।
• শহরের পথে পথে ফুটে ওঠা কৃষ্ণচূড়াকে কবি আমাদের চেতনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। যেখানে শহিদদের ঝলসিত রক্তের বুদ্বুদ স্মৃতিগন্ধে ভরপুর হয়ে কৃষ্ণচূড়া হয়ে ফুটে উঠেছে। কিন্তু এ চেতনার বিপরীত চেতনা বলতে কবি পাকিস্তানি শাসকদের হীন শাসনকে বুঝিয়েছেন। যারা জোরপূর্বক বাঙালির মাতৃভাষার ওপর আঘাত হানে। বাঙালিরা সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী, যা বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রেরণা ও সংগ্রামী চেতনার বিপরীত।
• উদ্দীপকের আলোকে সংশ্লিট কবিতাটি তথা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি নামকরণের দিক থেকে অন্যতম সার্থকতা অর্জন করেছে।
• সাতচল্লিশের দেশভাগের পর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে নবচেতনায় উজ্জীবিত করেছে। ভাষা আন্দোলনের সফলতা অর্জনের অনুপ্রেরণা থেকেই একপর্যায়ে অর্জিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা।
• উদ্দীপকে যে ভাববস্তু তুলে ধরা হয়েছে তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেকোনো মুক্তির সংগ্রাম হঠাৎ করে সংঘটিত হয় না। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধও হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে বহু বৈচিত্র্যময় ঘটনার সমন্বয়। যার প্রথমটি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। বায়ান্নর ফেব্রুয়ারিতে যে চেতনায় সংঘবদ্ধ হয়ে উঠেছিল বাঙালি জাতি সেই চেতনার মধ্য দিয়ে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে বাঙালি জাতি সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে। তাই ১৯৬৯ সালের পটভূমিতে কবিতা রচনা করতে গিয়েও কবি বায়ান্নর ফেব্রুয়ারির কথা তুলে ধরেছেন। তাই সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়, 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' নামকরণটি এ কবিতাটিকে অন্যতম শিল্পসফল করে তুলেছে।
• "বাঙালির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেরণা ছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।" বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখলে এ যুক্তিটির যথার্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
• স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি স্থাপনে রয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ভাষার চেতনা থেকে একতাবদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি যুগ যুগ ধরে নিজেদের অধিকার আদায়ের সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
• উদ্দীপকে বলা হয়েছে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ করে শুরু হয়নি। এ যুদ্ধের পেছনে রয়েছে একটা দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং ইতিহাসের অনিবার্য ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের এই ধারাবাহিকতার প্রথম সোপান ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানিরা অন্যায়ভাবে বাঙালির ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চাইলে বাঙালি জাতি একতাবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে দুর্বার সংগ্রাম, যে সংগ্রামে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫২ সালের সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি পাকিস্তানি অন্যায় শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে কবিতা রচনা করতে গিয়ে তুলে এনেছেন বায়ান্নর চেতনার কথা। কারণ বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রামের প্রথম সোপান সেই ভাষা আন্দোলন। তাই সার্বিক পর্যালোচনায় এ যুক্তিটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বাঙালির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেরণা ছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।