১ম অংশ:
হে সূর্য তুমি তো জানো,
আমাদের গরম কাপড়ের কত অভাব।
সারারাত খড়কুটো জ্বালিয়ে
এক টুকরো কাপড়ে কান ঢেকে
কত কষ্টে আমরা শীত আটকাই।
২য় অংশ:
আমারে চেনো না? আমি যে কানাই!
ছোকানু আমার বোন।
তোমার সঙ্গে বেড়াবো আমরা
মেঘনা, পদ্মা, শোন।
'কালমেঘ' হলো যকৃতের রোগে উপকারী এক প্রকার তিস্ত স্বাদের গাছ।
নিজের আর্থিক অসচ্ছলতা প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে হরিহর দশঘরার লোকটির প্রস্তাবে তৎক্ষণাৎ রাজি হয়নি।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে হরিহর ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হলেও দারিদ্র্যের কষাঘাতে তার নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। গ্রামের অন্নদা রায়ের বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে যে অল্প কয়টা টাকা পায় তা দিয়ে তার সংসার ঠিকঠাক চলে না। চারদিকে তার দেনার বোঝা। এমন অবস্থায় দশঘরার এক সদগোপ হরিহরকে তার এলাকায় ব্রাহ্মণ হিসেবে মন্ত্র দিতে এবং সেই গ্রামে গিয়ে বাস করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু হরিহর সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি, কারণ এতে ব্রাহ্মণ হিসেবে তার আত্মসম্মানে বাধে এবং লোকটি তার অসচ্ছল অবস্থা বুঝে যেত।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের যে ভাবটি প্রতিফলিত হয়েছে তা হলো হরিহর-সর্বজয়ার সংসারের দারিদ্র্য।
আমাদের সমাজে দরিদ্ররা জীবনের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খায়। দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেও তারা সংসারে সচ্ছলতা আনতে পারে না। তাদের চারদিকে শুধু হাহাকার।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে সমাজের দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষের দুরবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে। তারা সূর্যের কাছে তাদের অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেছে যে তাদের গরম কাপড়ের খুব অভাব, সারা রাত তারা খড়কুটো জ্বালিয়ে থাকে। এ বিষয়টি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহরের সংসারের দারিদ্র্যের সমান্তরাল। হরিহরের আট টাকা মাইনের চাকরিতে সংসার চলে না। ধারের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গ্রামে সর্বজয়াকে অপদস্থ হতে হয়। অপু-দুর্গার পরার জামা ছেঁড়া। দেনার দায়ে হরিহর-সর্বজয়ার গ্রাম ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের প্রথম অংশে আলোচ্য গল্পের দরিদ্রতার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
"উক্ত প্রতিফলিত ভাবটি উদ্দীপকের ২য় অংশের সাথে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবকে স্তব্ধ করতে পারেনি।"-মন্তব্যটি যৌক্তিক।
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের প্রকৃতির প্রতি গভীর আকর্ষণ থাকে। প্রকৃতির আনন্দময় পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের সংসারের অভাব-অনটন স্পর্শ করে না।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে কানাই নামের এক কিশোরের শৈশবের আনন্দঘন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে। সে তার বোনকে সঙ্গে নিয়ে মেঘনা, পদ্মা ও শোন নদী বেড়াতে যেতে চায়। উদ্দীপকের প্রথম অংশে প্রতিফলিত দারিদ্র্য এখানে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে অপু-দুর্গার গ্রামীণ পরিবেশে প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় হাসি-আনন্দে কাটানোর সঙ্গে উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশ সাদৃশ্যপূর্ণ। দারিদ্র্যের কশাঘাত তাদের সেই আনন্দকে স্নান করতে পারেনি। গ্রামীণ ফলফলাদি খাওয়ার আনন্দ এবং বিচিত্র বিষয় নিয়ে তাদের বিস্ময় ও কৌতূহল গল্পটিকে অনন্য করে তুলেছে।
মূলত উদ্দীপকের প্রথম অংশে দারিদ্র্য এবং দ্বিতীয় অংশে শৈশবের উচ্ছলতার কথা প্রকাশ পেয়েছে। আলোচ্য 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পেও এই দুটি দিকের প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই শৈশবের অকৃত্রিম আনন্দের কাছে দারিদ্র্য ম্লান হয়ে গেছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
