| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক…’ নটরডেম কলেজ ২০২৬ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক মত প্রকাশ করে যে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। এ চারটি স্তম্ভ হলো- ১. দায়িত্বশীলতা, ২. স্বচ্ছতা, ৩. আইনি কাঠামো ও ৪. অংশগ্রহণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
যে শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা, সবার অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে এবং বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান সে শাসনকে সুশাসন বলে।
সুশাসন জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে। আর জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক শাসনই হলো গণতন্ত্র।
রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন ও সমান সুবিধা নিশ্চিতকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা; ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। আর এই বিষয়গুলো সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থারই বৈশিষ্ট্য। তাই কোনো রাষ্ট্রে যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে গণতন্ত্রের অনুকূল পরিবেশও সৃষ্টি হয়। এ কারণেই বলা হয় সুশাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
সুশাসনের পথে বাধা দূরীকরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম দুটি স্তম্ভঅর্থাৎ দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ
দায়িত্বশীলতা বা জবাবদিহিতা বলতে বোঝায় প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা জনগণের কাছে জবাবদিহি করা। অন্যদিকে, স্বচ্ছতা হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি সবার কাছে স্পষ্ট, সহজবোধ্য ও উন্মুক্ত রাখা। এই দুটি বিষয় দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সুশাসনের চারটি স্তম্ভের মধ্যে প্রথম দুটি হলো দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা। সুশাসনের পথে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও তথ্যের গোপনীয়তা। যখন কোনো শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা থাকে, তখন সরকারি কর্মকান্ডে গোপনীয়তা দূর হয় এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়। আবার দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত হলে সরকারি কর্মকর্তারা তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন, যা ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা কমে এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়। ফলে সুশাসনের পথে বিদ্যমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধাগুলো দূর হয় এবং একটি জনকল্যাণমুখী ও গতিশীল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমি এই উক্তির সাথে একমত যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত তৃতীয় ও চতুর্থ সুম অর্থাৎ আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করে।
আইনি কাঠামো বা আইনের শাসন হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে আইন সবার জন্য সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অন্যদিকে, অংশগ্রহণ বলতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে বোঝায়। এই দুটি উপাদানই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি ও প্রাণশক্তি।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো থাকলে নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সব নাগরিক সমান সুযোগ পায়, যা গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত। আবার জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে নির্বাচন ব্যবস্থা সুষ্ঠু হয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জনমতের প্রতিফলন ঘটে। গণতন্ত্রের মূল কথা হলো জনগণের শাসন, যা এই অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বাস্তবে রূপ লাভ করে। আইনি কাঠামো ছাড়া গণতন্ত্র স্বৈরাচারে রূপ নিতে পারে এবং অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র কেবল নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, একটি রাষ্ট্রে সুশাসন ও গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক। আইনি কাঠামো নাগরিকের নিরাপত্তা, সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যা গণতন্ত্রের সৌন্দর্যকে বিকশিত করে। আবার জনগণের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং সরকারকে জনমুখী ও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করে। সুতরাং, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ কেবল সুশাসনের স্তম্ভই নয়; বরং এগুলো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী, টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অপরিহার্য শর্ত। তাই উদ্দীপকের উক্তিটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত যৌক্তিক।