| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৬ – সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। এ চারটি স্তম্ভ হলো ১. দায়িত্বশীলতা, ২. স্বচ্ছতা, ৩. আইনি কাঠামো ও ৪. অংশগ্রহণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনই সুশাসন (Good Governance) |
স্বজনপ্রীতির সাধারণ অর্থ হলো আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ভালোবাসা। কিন্তু পৌরনীতিতে এ বিষয়টি এক ধরনের দুর্নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে, প্রচলিত নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে এবং যোগ্য লোককে বঞ্চিত করে নিজের আত্মীয়-স্বজনকে অনৈতিক বা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাকে স্বজনপ্রীতি (Nepotism) বলা হয়। যেমন; বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ আমলা কর্তৃক এ ধরনের স্বজনপ্রীতির বিষয়টি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুশাসনের চারটি প্রধান স্তম্ভের মধ্যে প্রথম দুটি স্তম্ভ অর্থাৎ দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা সুশাসনের পথে বাধা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করাকে সুশাসন (Good Governance) বলে। বিশ্বব্যাংক ও UNDP- এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহ প্রকাশ করতে পারে এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'দায়িত্বশীলতা' ও 'স্বচ্ছতা' এসব প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সকল স্তরে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের লক্ষ্য অর্জনে কার কী দায়িত্ব এবং কোন সময়ের মধ্যে তা সম্পাদন করতে হবে, পূর্ব থেকে এসব নির্ধারিত থাকলে শাসনকার্য পরিচালনায় কোনো প্রকার অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ থাকে না। প্রশাসনের সকল স্তরে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হলে এবং সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যথাযথভাবে কাজ করলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। শাসনব্যবস্থার স্বরূপ, সরকারের কর্মকান্ড এবং সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন-কানুন এমন স্বচ্ছ হতে হবে যেন তা সকল নাগরিকের জন্য সহজে বোধগম্য হয়। কেউ যেন ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থে কিংবা দলীয় স্বার্থে এগুলোর ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের সকল স্তরে দুর্নীতি দূর করে স্বচ্ছ জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। এককথায় প্রশাসনের যাবতীয় কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
উপর্যুক্ত আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায়, জনগণের কল্যাগ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। দুর্নীতি দূর করে প্রশাসনের সর্বস্তরে দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সকল প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত সুশাসনের চারটি প্রধান স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ স্তম্ভ সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করে- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
উদ্দীপকে বর্ণিত যে, বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। এগুলো হলো: দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ। এগুলোর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ স্তম্ভ অর্থাৎ 'আইনি কাঠামো' ও 'অংশগ্রহণ' সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করে। এ মতের পক্ষে নিম্নে যুক্তি প্রদান করা হলো।
আইনি কাঠামো: সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে সরকার ও জনগণের পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সকল কার্যক্রম জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হলে দেশে সুশাসন নিশ্চিত হবে। সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আইনি কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো আইনের শাসন। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এবং জনকল্যাণ সুরক্ষিত হবে। নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে আইনের দৃষ্টিতে সমান বলে বিবেচিত হবে। সর্বোপরি গণতন্ত্র সুনিশ্চিত হবে।
অংশগ্রহণ: সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনই সুশাসন। অর্থাৎ সুশাসনের ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা জনগণের অংশগ্রহণ ব্যতীত শাসনকার্য পরিচালিত হলে সেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা থাকে এবং জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়। ফলে জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালিত হলে যেকোনো নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হয়। ফলে সরকার জনকল্যাণবিরোধী বা জনস্বার্থ পরিপন্থি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করে। জনগণ তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়। জনস্বার্থ বিরোধী যেকোনো সরকারি কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে সরকারকে জনকল্যাণে পরিচালিত হতে সহায়তা করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আইনি কাঠামো ও দেশের শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গণতন্ত্রকেও সুনিশ্চিত করে।