| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘২০১৪ সালে বলিভিয়ায়…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: কোম্পানি আমল (শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত), ইতিহাস, ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি)

২০১৪ সালে বলিভিয়ায় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা উন্নত পরিবেশ ও জীবনমান বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিদ্রোহী সৈন্যদের বহিষ্কার করে বিদ্রোহ দমনে সক্ষম হন দেশটির প্রেসিডেন্ট। পরবর্তীতে তিনি সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে খাজনা প্রদান না করলে জমিদারি বাজেয়াপ্ত করা হতো। এটি সূর্যাস্ত আইন নামে পরিচিত।
ভারতে ব্রিটিশ শাসন কাঠামো প্রবর্তনে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড ফ্রেডেরিক নর্থ যে আইন প্রণয়ন করেন, ঔপনিবেশিক ভারতের ইতিহাসে তা রেগুলেটিং অ্যাক্ট বা নিয়ামক আইন নামে পরিচিত। ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতে ব্রিটিশ শাসনকাঠামো প্রবর্তনে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এ আইন অনুযায়ী সর্বপ্রথম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কলকাতাভিত্তিক কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের সিপাহী বিদ্রোহের মিল আছে যা ১৮৫৭ সালে সংঘটিত হয়।
সিপাহী বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় চর্বিমিশ্রিত কার্তুজের প্রচলনকে। সামরিক তথা বিভিন্ন কারণে যখন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত ঠিক তখনই চর্বিমিশ্রিত কার্তুজের ঘটনা বারুদে অগ্নি স্ফুলিঙ্গের কাজ করে। ১৮৫৬ সালে, সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড রাইফেল প্রচলন করা হয়। ব্যবহারের পূর্বেই এই রাইফেলের কার্তুজ দাঁত দিয়ে কাটতে হতো। গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শূকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে। ইংরেজরা ইচ্ছাকৃতভাবে এ কার্তুজের প্রচলন করেছে। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহীদের ধর্ম নাশ করার জন্য। প্রচলনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সিপাহীদের বিদ্রোহী, করে তোলে। বিদ্রোহে আপামর জনগণও অংশ নেয়। এজন্য একে ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামও বলা হয়। তেমনি ঘটনা উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়। এখানে বলিভিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা উন্নত পরিবেশ ও জীবনমান বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিদ্রোহী সৈন্যদের বহিষ্কার করে বিদ্রোহ দমনে সক্ষম হন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের মিল আছে।
উক্ত বিদ্রোহের অর্থাৎ ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী-উক্তিটি যথার্থ।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহকে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম বলে অভিহিত করা হয়। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ছিল ধনী-গরিব নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের অভ্যুত্থান। অনেক স্থানে সিপাহীরা বিদ্রোহ করার আগেই জনসাধারণ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সিপাহী ও জনসাধারণের সম্মিলিত বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। এ বিদ্রোহ ভারতীয় আকাশ থেকে অনেক মেঘকে বিদ্রোহের ঝড়ের বাতাসে সরিয়ে দেয়। এ সংগ্রামের প্রধান বলি ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ভারতের শাসনভার একটি বণিক কোম্পানির হাতে আর যে রাখা যায় না তা ব্রিটিশ পার্লামেন্ট অনুধাবন করতে পারে। ফলে ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইন দ্বারা ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটানো হয়। তাছাড়া বিদ্রোহ দমনের পর ভারতের সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। হিন্দুরা পাশ্চাত্য সাহিত্য ও বিজ্ঞান সর্বান্তঃকরণে গ্রহণ করে আধুনিকতার পথে অগ্রসর হতে থাকে।
পরিশেষে বলা যায় যে, সিপাহী বিদ্রোহের ফলে ভারতীয় জনগণ অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে এবং ক্রমান্বয়ে ১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটায়। তাই বিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী- উক্তিটি যথার্থ।