| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ২০২৪ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
সমসংস্থ ক্রোমোসোম জোড়ের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট জিন জোড়ের একটিকে অপরটির অ্যালিল বলে।
F1 বা F2জনুর বংশধরগুলো খাঁটি না সংকর, তা জানার জন্য তাদেরকে মাতৃবংশের বিশুদ্ধ প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের সাথে সংকরায়ন বা ক্রস করা হলে একে টেস্ট ক্রস বলা হয়। যেমন- কোন সংকর লম্বা গাছ (Tt) এর সাথে বিশুদ্ধ খাটো গাছ (tt) এর সংকরায়ন ঘটালে জিনোটাইপিক অনুপাত হবে ১ : ১।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম। কারণ এপিস্ট্যাটিক জিনের কারণে হাইপোস্ট্যাটিক জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা পায় ফলে এখানে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ এর পরিবর্তে ১৩:৩ হয়েছে। একটি জিন যখন অন্য একটি নন- অ্যালিলিক জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা দেয় তখন এ প্রক্রিয়াকে এপিস্ট্যাসিস বলে।
সাদা লেগহর্ন গোষ্ঠীর মোরগ-মুরগিতে রঙিন পালক সৃষ্টির জন্য দায়ী একটি প্রধান জিন (C) থাকে। কিন্তু এপিস্ট্যাটিক জিন (I)-এর কারণে রঙিন পালক সৃষ্টি হতে না পারায় পালকগুলো সাদা রঙের হয়। F1 জনুতে সব শাবক সাদা পালক বিশিষ্ট হলেও F2 জনুতে যেটিতে এপিস্ট্যাটিক জিন (I) অনুপস্থিত থাকে এবং প্রকট জিন (C) উপস্থিত থাকে সেটিতে রঙিন পালক সৃষ্টি হয়। ফলে F2 জনুর সাদা ও রঙিন শাবকের ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ১৩:৩। অন্যদিকে, মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রানুযায়ী ডাইহাইব্রিড ক্রসে দুই জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের দিকে দৃষ্টি রেখে ক্রস ঘটানো হয় এবং এখানে ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে প্রকট অ্যালিলিক জিনের মাধ্যমে। ফলে F2 জনুতে জোড়া বৈশিষ্ট্যের ফিনোটাইপিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে ৯:৩:৩:১ অনুপাতের মাধ্যমে।
সুতরাং উদ্দীপকের প্রক্রিয়ার F2 জনুতে প্রাপ্ত ফিনোটাইপিক অনুপাত ভিন্ন হয়ে থাকে
উদ্দীপকে প্রকট এপ্রিস্ট্যাসিসকে নির্দেশ করা হয়েছে। যাতে মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যতিক্রম হিসেবে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ এর পরিবর্তে ১৩:৩ অনুপাতে পাওয়া যায়।একটি জিন যখন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা দেয় তখন এ প্রক্রিয়াকে এপিস্ট্যাসিস বলে। যে জিনটি অপর জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয় সে জিনকে এপিস্ট্যাটিক জিন ও যে জিনটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা পায় তাকে হাইপোস্ট্যাটিক জিন বলে।
বেটসন ও পানেট পরিচালিত পরীক্ষায় আবিষ্কৃত হয় যে, সাদা লেগহর্ন ও সাদা ওয়াইনডট মোরগ-মুরগির মধ্যে ক্রসে F1 জনুতে সব সাদা পালক বিশিষ্ট হয়। এক্ষেত্রে রঙিন পালক প্রকাশের জন্য প্রকট জিন (C) থাকলেও তা প্রকাশিত হতে পারে না এপিস্ট্যাটিক জিন (I) এর কারণে। কিন্তু F1জনুর শাবকগুলোর মধ্যে ক্রসে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ এর পরিবর্তে ১৩:৩ হয় যা মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যতিক্রম। নিচে তা চেকার বোর্ডের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হলো—
এক্ষেত্রে ওয়াইনডট মোরগ-মুরগির দেহে কোনো রঙিন পালকের প্রকট জিন না থাকায় তারা প্রাকৃতিকভাবেই সাদা হয়। কিন্তু লেগহর্ন জাতের মোরগ-মুরগিতে রঙিন পালকের প্রকট জিন (C) থাকে। কিন্তু এদের ক্রোমোসোমের অন্য একটি লোকাসে একটি বা দুটি এপিস্ট্যাটিক জিন (I) থাকায় রঙিন পালকের প্রকট জিন (C) দমিত থাকে। ফলে বর্ণ প্রকাশ ব্যাহত হয়। তাই সাদা লেগহর্ন ও সাদা ওয়াইনডট মোরগ- মুরগির ক্রসের ফলে F1 জনুতে রঙিন পালক দেখা যায় না ।
উপরের বিশ্লেষণে বোঝা যায়, CCII জিনোটাইপধারী পিতা ও CCii জিনোটাইপধারী মাতার সাথে ক্রস করালে সকল অপত্য সাদা পাওয়া যায়।