| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ২০২৬ – ব্যাখ্যা, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ তিনটি।
লৌকিক ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃতিক, মনগড়া ও অলৌকিক কারণ উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। এখানে অমৌলিক ও গুরুত্বহীন বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। এছাড়া এখানে কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে না বিধায় লৌকিক ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নয়।
উদ্দীপকে অধিক ব্যাপক নিয়ম ও কম ব্যাপক নিয়মের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্তি রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে। যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি কম ব্যাপক নিয়মকে একটি বেশি ব্যাপক নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। যে নিয়মের বিস্তৃতি, পরিধি ও কলেবর বেশি তাকে বেশি ব্যাপক নিয়ম বলে এবং যে নিয়মের বিস্তৃতি, পরিধি ও কলেবর কম তাকে কম ব্যাপক নিয়ম বলে। এ ধরনের ব্যাখ্যায় যে নিয়মকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় সেটি বিশেষ নিয়ম এবং যে নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় সেটি একটি সার্বিক নিয়ম। উদ্দীপকে জোয়ার-ভাটা হলো কম ব্যাপক নিয়ম ও মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম হলো বেশি ব্যাপক নিয়ম। এই ব্যাখ্যায় জোয়ার-ভাটার নিয়মকে মাধ্যাকর্ষণ নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এভাবে যখন জোয়ার-ভাটার নিয়মকে মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্ভুক করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তখনই ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্তি ঘটে।
উদ্দীপকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি রূপ 'অন্তর্ভুক্তি' বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। আর এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হওয়ায় এর প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব অনস্বীকার্য। অন্তর্ভুক্তিতে একটি কম ব্যাপক নিয়মকে অপেক্ষাকৃত বেশি ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়। এ ধরনের ব্যাখ্যায় যে নিয়মকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় সেটি বিশেষ নিয়ম এবং যে নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেটি একটি সার্বিক নিয়ম। যেমন জোয়ার-ভাটা, জড়বস্তুর ভূ-পতন, গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি ইত্যাদি কম ব্যাপক নিয়মকে মাধ্যাকর্ষণ নামক বেশি ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। আবার মাধ্যকর্ষণ নিয়মকে মহাকর্ষ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। অন্তর্ভুক্তি অবরোহমূলক প্রক্রিয়া। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি রূপ হিসেবে অন্তর্ভুক্তিতে ঘটনাবলির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের মাধ্যমে ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। আর ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানই ব্যাখ্যার মূল উদ্দেশ্য। এজন্য বলা যায়, কোনো ঘটনার ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্তি বিষয়টির প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব অনেক বেশি।