| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ২০২৬ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করার জন্য শরীরের একটি সুনির্দিষ্ট লিম্ফোসাইট কোষকে বেছে নিয়ে তার অসংখ্য প্রতিলিপি তৈরি করার প্রক্রিয়াকে ক্লোনাল সিলেকশন বলে।
টিকার প্রাথমিক ডোজ গ্রহণের ফলে শরীরে যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিবডির সৃষ্টি হয়, সময়ের সাথে সাথে তার কার্যকারিতা বা পরিমাণ ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এই স্মৃতি কোষগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করতে এবং রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে নির্দিষ্ট সময় পর বুস্টার ডোজ প্রদান করা হয়। এটি শরীরের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং সংশ্লিষ্ট রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। মূলত ইমিউন সিস্টেমকে পূর্বের লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দ্রুত সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বজায় রাখাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y' চিহ্নিত চিত্রটি হলো বেসোফিল, যা এক ধরনের দানাদার শ্বেত রক্তকণিকা। এটি আমাদের শরীরের সহজাত প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
হেপারিন নিঃসরণ: বেসোফিল রক্তে 'হেপারিন' নামক পদার্থ নিঃসরণ করে, যা রক্তবাহিকার ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
হিস্টামিন নিঃসরণ: শরীরের কোনো অংশে সংক্রমণ বা অ্যালার্জি জনিত সমস্যা হলে বেসোফিল 'হিস্টামিন' নিঃসরণ করে। এই হিস্টামিন সংশ্লিষ্ট স্থানে রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, ফলে সেখানে দ্রুত' অন্যান্য শ্বেত রক্তকণিকা পৌঁছে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।
অ্যালার্জি প্রতিরোধ: এটি মূলত শরীরের অ্যালার্জি জনিত অতিসংবেদনশীলতা বা ইনফ্লামেটরি (প্রদাহ) সাড়া প্রদানের জন্য দায়ী।
জীবাণু শনাক্তকরণ: বেসোফিল তার পৃষ্ঠতলের রিসেপ্টর ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু জীবাণু বা পরজীবী শনাক্ত করতে পারে এবং ইমিউন সিস্টেমের অন্যান্য কোষকে সতর্ক সংকেত পাঠায়।
উদ্দীপকের 'X' (পাকস্থলি), 'Y' (বেসোফিল) এবং 'Z' (অ্যান্টিবডি) মানবদেহের তিন ধরনের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিরক্ষা স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে। এদের কাজের ধরন এবং কার্যকারিতার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. প্রতিরক্ষা স্তর: 'X' বা পাকস্থলি দেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশ। 'Y' বা বেসোফিল হলো দ্বিতীয় স্তরের অংশ এবং 'Z' বা অ্যান্টিবডি হলো তৃতীয় বা চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা স্তরের অংশ।
২. কাজের ধরন: পাকস্থলি HCI এসিড নিঃসরণের মাধ্যমে খাবারের সাথে আসা জীবাণু ধ্বংস করে একটি রাসায়নিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, বেসোফিল রক্তে হেপারিন ও হিস্টামিন নিঃসরণ করে প্রদাহজনিত সাড়া বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে জীবাণু দমনে ভূমিকা রাখে।
৩. নির্দিষ্টতা: 'X' এবং 'Y' হলো সুনির্দিষ্ট নয় (Non-specific) এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা সব 'ধরনের জীবাণুর বিরুদ্ধে একইভাবে কাজ করে। কিন্তু 'Z' বা অ্যান্টিবডি হলো সুনির্দিষ্ট (Specific) ব্যবস্থা, যা কেবল নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিপক্ষেই কার্যকর হয়।
৪. স্মৃতি বা মেমোরি: 'X' এবং 'Y' এর কোনো স্মৃতি নেই, অর্থাৎ এরা একবার কোনো জীবাণুকে ধ্বংস করলে পরবর্তীতে তাকে। মনে রাখতে পারে না। কিন্তু 'Z' এর পেছনে থাকা লিম্ফোসাইট কোষগুলো জীবাণুর স্মৃতি ধরে রাখে, ফলে পরবর্তীতে একই জীবাণু আক্রমণ করলে খুব দ্রুত সাড়া দিতে পারে।
৫. স্থায়িত্ব: পাকস্থলি ও বেসোফিলের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক কিন্তু স্বল্পস্থায়ী। বিপরীতে, অ্যান্টিবডি বা অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেহে দীর্ঘস্থায়ী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) গড়ে তোলে।
পরিশেষে বলা যায়, 'X' এবং 'Y' দেহকে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দিলেও, 'Z' বা অ্যান্টিবডি দেহের জন্য একটি অত্যন্ত উন্নত, জটিল এবং বিশেষায়িত সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রদান করে যা অন্য দুটি থেকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন।